এবার ‘ভুয়ো আইনজীবী’র হদিশ – বর্ধমান আদালত চত্বরে পোস্টার ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য – তদন্তে বার অ্যাসোসিয়েশন

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: শনিবার ৪,জুলাই :: এবার খোদ আদালত চত্বরেই থাবা বসাল ‘ভুয়ো’র কারবার। বর্ধমান জেলা আদালত চত্বরে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘ভুয়ো আইনজীবী’র অভিযোগ তুলে পোস্টার পড়াকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ালো শনিবার গোটা এলাকায়।

অভিযুক্তের নাম নিলয় চোঙদার। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বর্ধমান আদালতে আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হলেও, এবার তার যোগ্যতা ও সদস্যপদ নিয়েই উঠে গেল বিরাট প্রশ্নচিহ্ন।

এদিন সকালে বর্ধমান কোর্ট চত্বরের গাড়ি এবং সাইকেল স্ট্যান্ডের পিছনে শনিবার হঠাৎই বেশ কিছু পোস্টার সাধারণ মানুষের নজরে আসে।

আলাদা আলাদা লেখা ও ছবি সংবলিত দুটি পোস্টারে সরাসরি নিলয় চোঙদারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে। পোস্টারে দাবি করা হয়েছে, আইন পাস না করেই দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনে প্র্যাকটিস করছেন নিলয়।

তিনি বারের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও কার আশীর্বাদে এই বেআইনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তা নিয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে ওই পোস্টারে। এই নজিরবিহীন ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে আইনজীবী মহলে।

এই ঘটনার বিষয়ে বর্ধমান বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অরূপ দাস জানান, সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটিং চলাকালীন আউশগ্রাম থেকে আসা একটি চিঠি তাঁদের হস্তগত হয়। এরপরই তড়িঘড়ি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ফাইল খতিয়ে দেখে বার কর্তৃপক্ষ।

এই ব্যক্তি আইন পাস করার আগেই আদালতে প্র্যাকটিস শুরু করেছিলেন। আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার জন্য বাধ্যতামূলক All India Bar Examination (AIBE) তিনি এখনও পাস করেননি। নিয়মানুযায়ী তাঁকে এখনও বর্ধমান বারের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং তাঁর সদস্যপদ বর্তমানে ‘পেন্ডিং’ বা স্থগিত রয়েছে।

বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আরও জানান, সাধারণত মেম্বারশিপ দেওয়ার আগে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রুটিনি মিটিং হয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সদস্যপদ চূড়ান্ত না হওয়ায় সেই মিটিং এখনও হয়নি। তবে চিঠিটি পাওয়ার পর থেকেই তাঁরা অত্যন্ত তৎপর হয়েছেন।

এই ব্যক্তির সমস্ত নথিপত্র এবং কাগজপত্র ইতিমধ্যেই ‘বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল’ এবং ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’-র কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি বিষয়টি জেলা জজকেও লিখিতভাবে জানানো হবে ।

অন্যদিকে, বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সঞ্জয় ঘোষ স্পষ্ট জানান, নিলয় চোঙদার এই মুহূর্তে বার অ্যাসোসিয়েশনের কোনো সদস্যই নন। ফলে একজন অ-সদস্যের বিরুদ্ধে বার সরাসরি কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

5 − three =