নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: হাবড়া :: বৃহস্পতিবার ৯,জুলাই :: বাবা ও দাদুর লাগাতার লালসার শিকার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। সব জেনেও নীরব ছিলেন মা। অবশেষে স্কুলের শিক্ষিকার তৎপরতায় গ্রেপ্তার কীর্তিমান বাবা ও দাদু। মাকেও শ্রীঘরে পাঠাল পুলিশ।
বুধবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। বৃহস্পতিবার ধৃত তিনজনকে বারাসত আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক বছর আগে ওই কিশোরীর মায়ের সঙ্গে বাবার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মা আবার বিয়ে করেন।
হাবড়ায় ধর্ষণের দায়ে গ্রেপ্তার সৎ বাবা ও সৎ দাদু
মেয়েকে নিয়ে মা নতুন স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন। ওই কিশোরী হাবড়ার একটি নামী স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। গত কয়েক দিন ধরে স্কুলের শিক্ষিকারা লক্ষ্য করেন, ওই কিশোরী স্কুলে কেমন যেন মনমরা হয়ে থাকছে। শিক্ষিকারা বিষয়টি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকাকে জানান।
প্রধান শিক্ষিকা শ্রেণি শিক্ষিকাকে ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলতে নির্দেশ দেন। বুধবার স্কুলে ওই কিশোরী একটি ফাঁকা ঘরে চুপচাপ মাথা নিচু করে বসেছিল। শ্রেণি শিক্ষিকা তখন তাকে ডেকে নিভৃতে কথা বলেন। শ্রেণি শিক্ষিকার সামনে ওই কিশোরী কেঁদে ফেলে।
সে জানায়, সৎ বাবা ও সৎ দাদু দু’বছর ধরে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করছে। প্রথমে সৎ দাদু তার ওপর অত্যাচার করা শুরু করেছিলেন। পরে সৎ বাবাও তার ওপর অত্যাচার শুরু করেছেন। ওই কিশোরী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
শিক্ষিকা সমস্ত ঘটনা জানার পর হাবড়া থানায় কল করেন। হাবড়া থানার নবাগত ইন্সপেক্টর ইনচার্জ অভিজিৎ বিশ্বাস অভিযোগের গভীরতা বুঝতে পারেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে ওই স্কুলে যান। শিক্ষিকা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তারপরই পুলিশ হাবড়ার জয়গাছি এলাকা থেকে সৎ দাদু ও সৎ বাবাকে গ্রেফতার করেছে। দিনের পর দিন মেয়ের উপর অত্যাচার হলেও মা কেন চুপ করেছিলেন তা নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
পুলিশি জেরায় মা জানান, শ্বশুর ও স্বামীর কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে গেলে সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে তিনি নীরব ছিলেন। পুলিশ ওই কিশোরীর মাকেও গ্রেফতার করেছে।

