রাজ্যের প্রথম অভিনবত্বের আলোকের মোড়কে রথের ক্যার্ণিভ্যাল ও রথের প্রতিযোগিতা

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: জাঙ্গিপাড়া :: শনিবার ১৮,জুলাই :: হুগলী জেলার জাঙ্গিপাড়া থানার অন্তর্গত রহিমপুর নবারুন সংঘ – র সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র ‌” সুচেতনা ” রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করেছিল এক ব্যতিক্রমী ও নান্দনিক এবং অভিনবত্বের আলোকের মোড়কে এক মজার উৎসব।

যার নাম রথের ক্যার্ণিভ্যাল ও রথের প্রতিযোগিতা।উৎসব প্রাঙ্গণে প্রবেশ পথে দেখা গেলো , ছোট ছোট ক্ষুদ্র কচিকাঁচা শিশুরা তাদের মনোমত রথ সাজিয়ে নিয়ে প্রভু জগন্নাথদেবকে রথে বসিয়ে প্রত্যেকেই চলেছেন ” নবারুন সংঘ ” – র উৎসব প্রাঙ্গণের পথে।

আমাদের রহিমপুর নবারুন সংঘ – র একটি যাত্রাদল আছে।যার নাম রহিমপুর নবারুন নাট্যতীর্থ। আমরা এই নাট্যদলের মাধ্যমে গ্ৰামের শিশু, কিশোর – কিশোরী, যুবক – যুবতীদের নিয়ে যাত্রা , নাটক অভিনয় করে থাকি। আমাদের অভিনয় জেলার মঞ্চ গুলিতে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা সারা রাজ্য ব্যাপী বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করে প্রশংসিত ।

কয়েকজন শিশু নিজেদের কেনা রথ নিয়ে তাকে তাদের মনমতো করে সাজিয়ে রথ নিয়ে রাস্তার এদিক – ওদিক করছে। তখন তাদের আমি জিজ্ঞাসা করি,তোমরা কি করছো।তারা বললো আজকে রথ।তাই আমরা রথ টানছি। জিজ্ঞাসা করলাম, এই রথ নিয়ে কোথায় যাবে।

এদের এই ইচ্ছা ও রথ টানার বিচ্ছিন্ন আনন্দকে যদি আমরা এক জায়গায় আনতে পারি এবং তাদের সৃষ্টিকে উৎসাহিত ও মান্যতা দিয়ে যদি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে করি তাহলে, তাদের সৃষ্টির আনন্দে তারা মেতে উঠবে ।

তাদের মনের বাসনা পূরণ হবে এবং আনন্দ ও হবে। অপরদিকে নতুন নতুন করে রথ তৈরি ও সাজানোর উৎসাহ পাবে। আমার ইচ্ছার কথা সংঘের সকলের কাছে জানানোয়,তারা সকলেই আমার প্রস্তাব মেনে নেয়।ঠিক হয় পরের বৎসর রথের পুর্ণযাত্রার দিন (উল্টো রথের দিন) করা হবে।

প্রস্তুতি শুরু হয়।২০২১ সালের রথের পুর্ণযাত্রার দিন আমরা এই রথের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম।অল্প দিনের প্রস্তুতিতে সেই বছর পনেরো জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেছিল। তার পরের বৎসর ২০২২ সাল থেকে রথের দিনই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের আর কোনো জেলায় এই প্রতিযোগিতা হতো না।আমরাই প্রথম চালু করি।

আমাদের অনুসরণ করে এখন রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন সংগঠন এই রথের প্রতিযোগিতা করছে।যেটা ভালো লক্ষণ। আমাদের এখানে প্রতিযোগিতার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই বৎসর রথের কার্ণিভ্যাল এবং রথের প্রতিযোগিতায় তেত্রিশটি গ্ৰুপ অংশগ্রহণ করেছে।

রথের কার্ণিভ্যাল এবং রথের প্রতিযোগিতায় শুধুমাত্র হুগলী জেলার প্রতিযোগীরা নন, পাশ্ববর্তী হাওড়া, মেদিনীপুর সহ অন্যান্য জেলার প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করে। আমরা শিশু ও যুব সমাজকে রক্ষা করার জন্য সচেষ্ট আছি। এদের পাশাপাশি আমরা শিশু ও যুবদের অভিভাবক – অভিভাবিকাদের সঙ্গে শিশু, যুবদের রক্ষা করা ও লক্ষ্য রাখার জন্য নানান পরামর্শ দিয়ে থাকি।এতে আমরা বেশ সফল ও হচ্ছি। ‌

ষষ্ঠ বার্ষিক এই রথের কার্ণিভ্যাল এবং রথের প্রতিযোগিতায় প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করার জন্য উপস্থিত ছিলেন জাঙ্গিপাড়া কেন্দ্রের বিধায়ক প্রসেনজিৎ বাগ,বিদগ্ধ শিক্ষাবিদ – কবি- সাহিত্যিক ও সমালোচক অশোক অধিকারী,বিদগ্ধ শিক্ষাবিদ,কবি,সমালোচক ও ভাস্কর্য শিল্পী সত্যব্রত মন্ডল,বিদগ্ধ শিক্ষাবিদ ও নাট্যকার নিতাই কোনার, লোকসংস্কৃতি গবেষক,কবি এবং সাংবাদিক অভিজিৎ হাজরা প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × 5 =