তৃনমূল ছাড়লেন হুগলির তৃনমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী – দুষলেন অভিষেক কেই – হুগলির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জল্পনা

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: জলপাইগুড়ি :: সোমবার ২০,জুলাই :: তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী তথা প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সপ্তগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক তপন দাশগুপ্ত। রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগের ঘোষণা করার পাশাপাশি দলের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকেও ইস্তফা দেন তিনি।

দল ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তপন দাশগুপ্ত দাবি করেন, দলের বর্তমান ভরাডুবির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। তাঁর অভিযোগ, কিছু ‘দালাল’ দলটিকে শেষ করে দিয়েছে। গত দু’মাস ধরে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান।

তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মুকুল রায়ের হাতে গড়া সংগঠন থেকে একে একে শুভেন্দু অধিকারী, অর্জুন সিং, তাপস রায়ের মতো সংগঠকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকিছুই হয়েছে একজন ব্যক্তিকে সামনে তুলে ধরার জন্য।

এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে প্রার্থী না করায় ক্ষোভের সূত্রপাত হয় বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। পরে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অসিত মজুমদারকে হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হলে সেই ক্ষোভ আরও বাড়ে।

অনুগামীদের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি দলত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও আপাতত তিনি কোন দলে যোগ দেবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাননি। তবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “শুভেন্দু ভাল ছেলে, ভাল কাজ করছে।”

একসময় হুগলি জেলার রাজনীতিতে তৃণমূলের দুই প্রধান শিবিরের নেতৃত্বে ছিলেন চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার এবং সপ্তগ্রামের তপন দাশগুপ্ত।

তপনের দলত্যাগের পর দুই নেতার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কমবে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। জানা গিয়েছে, অসিত মজুমদার তপন দাশগুপ্তের সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

উল্লেখ্য, তপন দাশগুপ্ত তৃণমূল সরকারের আমলে তিনবার বিধায়ক এবং দু’বার মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। এছাড়াও তিনি দলের রাজ্য সহ-সভাপতি, ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পশুপালন দফতর এবং ফরেস্ট কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর দলত্যাগের ঘটনায় হুগলি জেলার রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর তপন দাশগুপ্তের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

sixteen − 6 =