নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ২২,জুলাই :: রাজ্যের সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার অবসান ঘটিয়ে রাজ্য সরকার সপ্তম পে কমিশন গঠনের ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার পর থেকেই কর্মচারী মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে কমিশন গঠন হলেও এখনই বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে না। কমিশন সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজ্য সরকার তা বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্রের খবর, কমিশনের মূল লক্ষ্য হবে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ), বেতন কাঠামো এবং বিভিন্ন ভাতার পুনর্বিন্যাস নিয়ে সুপারিশ করা।
কমিশন সরকারি কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের মতামতও গ্রহণ করতে পারে। বর্তমানে কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বেতন কতটা বাড়তে পারে? সরকারি ভাবে এখনও কোনও অঙ্ক ঘোষণা করা হয়নি।
তবে অতীতের পে কমিশনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কমিশনের সুপারিশে মূল বেতন, গ্রেড পে, বিভিন্ন ভাতা এবং পেনশনের কাঠামোয় পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কর্মীদের মোট মাসিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে চূড়ান্ত বৃদ্ধি নির্ভর করবে কমিশনের সুপারিশ এবং রাজ্য সরকারের অনুমোদনের উপর।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন করা হলে কর্মীদের আর্থিক স্বস্তি বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধীদের দাবি, কমিশন গঠনই যথেষ্ট নয়—কবে থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে এবং বকেয়া সুবিধা কীভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সরকারকে স্পষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে।
সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলিও কমিশনকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে তাদের দাবি, রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর দ্রুত তা কার্যকর করতে হবে এবং বেতন ও পেনশন সংশোধনের পাশাপাশি ডিএ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যারও স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
এখন নজর কমিশনের কাজের গতির দিকে। কমিশনের সুপারিশ প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন ও পেনশন ঠিক কতটা বাড়তে চলেছে।

