নীলরতন হাসপাতালের নার্স রুপালি বর্মনের রহস্য মৃত্যু ! পটাশপুরের সাউথখণ্ডের বাড়িতে শোকের ছায়া।

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: পটাশপুর :: শুক্রবার ১৪,আগস্ট :: কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (NRS) কর্তব্যরত এক নার্সের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বুধবার রাতে হাসপাতালের স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-এর শৌচালয় থেকে ওই নার্সের দেহ উদ্ধার হয়। মৃত নার্সের নাম রুপালি বর্মন। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর বিধানসভার সাউথ খণ্ড গ্রামে।

                                                              রুপালির বাবা অর্জুন চন্দ্র বর্মন

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত প্রায় ৮টা নাগাদ স্ত্রীরোগ বিভাগের HDU-তে কর্তব্যরত ছিলেন রুপালি। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ তিনি ফেন্টানিলের তিনটি ভায়াল নিয়ে শৌচালয়ের দিকে যান বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি বাইরে না আসায় সহকর্মীদের সন্দেহ হয়। পরে শৌচালয়ের দরজা ভেঙে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এরপর দ্রুত পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এন্টালি থানার পুলিশ। রাতেই লালবাজারের হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরাও হাসপাতালে যান এবং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার শরীরে আপাতত কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল থেকেও কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, শরীরে কোনও ওষুধ ইনজেক্ট করার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

তাঁর শরীরে ফেন্টানিল প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, কিংবা কীভাবে সেই ওষুধ শরীরে প্রবেশ করল—তা এখনও তদন্তের বিষয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

রুপালি বর্মনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের সাউথ খণ্ড গ্রামে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অত্যন্ত কষ্ট করে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছিলেন রুপালি।

কৃষক পরিবারের মেয়ে রুপালির পড়াশোনার প্রতি বরাবরই আগ্রহ ছিল বলে জানিয়েছেন পাড়া-প্রতিবেশীরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ১৫ দিন আগে বাবার বাড়িতে এসেছিলেন রুপালি। সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পরই ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা।

রুপালির বাবা অর্জুন চন্দ্র বর্মন জানান, বুধবার রাতে হঠাৎ তাঁর জামাই ফোন করে মেয়ের মৃত্যুর খবর দেন। খবর পাওয়ার পর থেকেই গোটা পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েছে। কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তা পরিবারের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়।

পরিবারের দাবি, রুপালির স্বভাব অত্যন্ত ভালো ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ধরনের অভিযোগ বা খারাপ আচরণের কথা তাঁরা কখনও শোনেননি। তাই এই মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল, তা জানতে পরিবারের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

রুপালির পরিবারের সদস্যদের দাবি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে আনতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত করতে হবে। তাঁদের অভিযোগ বা আশঙ্কা থাকলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুকে কোনও নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 1 =