নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: হাওড়া :: শুক্রবার ১৪,আগস্ট :: প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবস এলেই গোটা দেশ জুড়ে বাড়ে জাতীয় পতাকার চাহিদা। এবারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় সরকারের “হর ঘর তিরঙ্গা” কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তিরঙ্গা যাত্রায় শামিল হতে নির্দেশ দেন।
এর প্রেক্ষিতে অন্য বছরের তুলনায় এবারে জাতীয় পতাকার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। হাওড়ার উনসানি এলাকার পতাকা তৈরীর কারখানার মালিক রাজু হালদার বলেন, ” হর ঘর তিরঙ্গা কর্মসূচির জন্য এবারে বিভিন্ন সাইজের জাতীয় পতাকার চাহিদা বেশি।
সুতি এবং সিল্ক দু ধরনের কাপড়ে ছোট বড় ১৩ টি সাইজের পতাকা তৈরি করছেন কারখানার প্রায় ২০ জন কারিগর। সেই পতাকা চলে যাচ্ছে আসাম, ত্রিপুরা, বিহার, ঝাড়খন্ড ছাড়াও রাজ্যের সব জেলা এবং কলকাতার বড়বাজারে। এছাড়াও পাড়ার বেশ কিছু বাড়ির মহিলাদের দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে।”
গত ৬ মাস ধরে কারখানাতে কান পাতলেই সেলাই মেশিনের ঘর ঘর শব্দ শোনা যেত। এখানকার কর্মীরা জানিয়েছেন দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা কাজ করতে হচ্ছে। কাপড় কাটা, সেলাই এবং প্যাকিং করা সবটাই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়।
প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসের আগে তাদের ব্যস্ততা তুঙ্গে উঠলেও এই বছর সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে।
আসলে স্কুল, কলেজ, কোম্পানি, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, ক্লাব, রাজনৈতিক দল সহ সমস্ত ধরনের প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর অর্ডার আসায় কর্মীদের কাজ বেড়ে গেছে। এক কর্মী বলেন, “সকাল সাতটা থেকে রাত দুটো পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে। মাঝে সামান্য সময় খাওয়ার জন্য বিশ্রাম। যেভাবেই হোক কাজ শেষ করতে হবে।”
স্বাধীনতা দিবস দরজায় কড়া নাড়ছে। আর “হর ঘর তিরঙ্গা” কর্মসূচিতে পতাকার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুশি কারিগররা। কারণ বাড়তি খাটুনির জন্য তাদের বাড়তি আয় তাদের কাজের উৎসাহ বাড়িয়ে দিয়েছে।

