নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: আসানসোল :: শনিবার ১৯,সেপ্টেম্বর :: নন্দীগ্রামে মনোনয়ন প্রত্যাহার থেকে অনুপ্রবেশ ও আসানসোলের নাগরিক সমস্যা—তৃণমূলকে নিশানা অগ্নিমিত্রা পালের দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি, ট্রান্সজেন্ডারদের অভিযোগ ও বাজারে পার্কিং নিয়েও মুখ খুললেন বিজেপি নেত্রী
নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার থেকে শুরু করে কথিত অনুপ্রবেশ, ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি এবং আসানসোলের বাজারের নাগরিক পরিষেবা—বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থীর বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথিত সাক্ষাতের পর মনোনয়ন প্রত্যাহার করার বিষয়টি নিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের দাবি করেন।
তিনি বলেন, মানুষের মূল চাহিদা রুটি, কাপড়, বাসস্থানের পাশাপাশি উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, পানীয় জল ও ভালো রাস্তা। তাঁর দাবি, এই মৌলিক সমস্যাগুলির সমাধান বিজেপি সরকারের পক্ষেই আরও ভালোভাবে করা সম্ভব।
অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য, নন্দীগ্রামে প্রার্থীর সাক্ষাৎ এবং পরবর্তীতে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনাকে তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষের একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং মানুষের জন্য কাজ করতে ইচ্ছুকদের বিজেপির সঙ্গে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
বাংলাদেশি নাগরিক ও রোহিঙ্গাদের কথিত অনুপ্রবেশের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর দাবি, কিছু ব্যক্তি ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের পরিচয় ব্যবহার করে ভারতে প্রবেশ অথবা ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার চেষ্টা করছে।
ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা ও বজবজ-সহ কয়েকটি এলাকার ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সদস্যদের কথিত অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ভয় দেখানো ও কথিত তোলাবাজির অভিযোগ জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি কথিত ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি অস্ত্র প্রদর্শন ও নির্বাচনের আগে হুমকির অভিযোগও তোলেন। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের নজরে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে হিরাপুর থানার অন্তর্গত বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে ভারতি ভবনে বৈঠক করা হচ্ছে বলেও জানান অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে থানাভিত্তিকভাবে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা, করণীয় এবং সতর্কতার বিষয়গুলি জানানো হচ্ছে।
কলকাতার মিলন মেলায় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে হওয়া বৈঠকে দেওয়া নির্দেশগুলিও স্থানীয় পুজো কমিটিগুলিকে জানানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। আসানসোলের বাজারে সাইকেল পার্কিং নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অগ্নিমিত্রা পাল।
তিনি বলেন, মানুষের সাইকেল চালানো বন্ধ করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং বাজারের পরিকাঠামো ও নাগরিক পরিষেবা আরও উন্নত করাই তাঁর লক্ষ্য। ল্যান্সডাউন মার্কেট পরিদর্শনের সময় বাজারের ভিতরে সাইকেল ও মোটরবাইক দাঁড় করানো দেখার পর নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার আবেদন করেছিলেন বলে জানান তিনি।
ফুটপাথ দখল করে গাড়ি পার্কিং নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্য, ফুটপাথে গাড়ি দাঁড় করানো হলে পথচারীদের, বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়াদের, মূল রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে। তাই নির্দিষ্ট পার্কিং এলাকায় দুই ও চার চাকার গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানান তিনি।
বাজার এলাকায় রাস্তা পরিষ্কার রাখা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন, উন্নত নিকাশি ব্যবস্থা এবং শৌচাগারের মতো নাগরিক পরিষেবা উন্নত করার উপরও জোর দেন অগ্নিমিত্রা পাল। নিজের কাজের ধরন নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনও জনপ্রতিনিধি নাগরিক সমস্যার সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক।
তবে তাঁর দাবি, মানুষের সুবিধা হলে এবং শহরের পরিস্থিতির উন্নতি হলে সমালোচনাকে তিনি গুরুত্ব দেন না।
আসানসোলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নাগরিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও অগ্নিমিত্রা পাল ধারাবাহিকভাবে সরব হচ্ছেন।

