সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: মথুরাপুর :: মঙ্গলবার ২৪,ফেব্রুয়ারি :: মথুরাপুরে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। সম্প্রতি মথুরাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বাপি হালদার এর উদ্যোগে রায়দিঘি বিধানসভার ৫১টি ক্লাবকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা এবং ফুটবল প্রদান করা হয়।
সাংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে এই অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটের প্রাক্কালে এতগুলি ক্লাবকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন।
মথুরাপুরে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প’ কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
তিনি প্রশ্ন করেন, এই অর্থ কোন সংস্থা দিয়েছে? সেই সংস্থার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কী? টাকার উৎস কোথায়? শুভেন্দুর দাবি, আগামী তিন দিনের মধ্যে সাংসদ যদি অনুদানের উৎস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করেন, তাহলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ইনকাম ট্যাক্স দফতরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, ভোটের আগে ক্লাবগুলিকে আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “জনগণের টাকায় বা অজ্ঞাত উৎসের অর্থে ভোটের আগে এই ধরনের অনুদান দেওয়া হলে তার স্বচ্ছতা থাকা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, যদি সব কিছু নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে, তাহলে তথ্য প্রকাশ করতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
মথুরাপুরে অনুদান বিতরণকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেল। সাংসদের তরফে এই অভিযোগের কী জবাব আসে এবং বিষয়টি আদৌ ইনকাম ট্যাক্স পর্যন্ত গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
সংকল্প পত্র প্রকাশ করে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা চরম আকার নিয়েছে। নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চাকরি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে এবং এর পূর্ণ তদন্ত হওয়া উচিত।

