স্বামী ও সন্তানের টানে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ, কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে খাটতে হলো কারাবাস।

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বনগাঁ :: বুধবার ১১,মার্চ :: স্বামী সন্তানের টানে ছুটে গিয়েছিলেন বাংলাদেশ। সেখানে গিয়ে খাটতে হলো ৮ মাস জেল। বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যস্থতায় অবশেষে ফিরলেন দেশে।

সূত্রের খবর,নিজের প্রথম স্বামীর সন্তানের টানে বাংলাদেশে গিয়েছিল ভারতীয় নাগরিক ফাল্গুনী রায়। এরপর তার জীবনে নেমে এল চরম দুর্গতি। তাকে মারধর করে পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ভারতে ফেরত যেতে বলল তার প্রথম স্বামী।বাধ্য হয়ে সীমান্তে চোরা পথে পা বাড়ায় সে। কিন্তু ধরা পড়ে বাংলাদেশের বিজিবির হাতে। এরপর ঠাঁই হয় বাংলাদেশের কারাগারে।

৮ মাস কারাভোগের পর সোমবার দুপুরে নদিয়ার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত দিয়ে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফাল্গুনী রায়কে হস্তান্তর করে বিজিবি।

ফাল্গুনী রায় (২৮) ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগা থানার সিংড়ী টেঙরা কলোনীর বাসিন্দা। হস্তান্তরের সময় তার স্বামী ভারতীয় নাগরিক প্রসেনজিৎ রায় উপস্থিত ছিলেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে ফাল্গুনী রায় বৈধ পথে বাংলদেশে যায়।

ফাল্গুনীর প্রথম স্বামী ও ছেলে সন্তানের সঙ্গে  দেখা করতে বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলায় স্বরুপকাঠিতে গিয়েছিল। কিন্তু তাকে মারধর করে পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে তাড়িয়ে দেয় ফাল্গুনীর প্রথম স্বামী।

কোনো উপায় না পেয়ে ফাল্গুনী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানা একালায় এসে নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নেয়।

এরপর পাসপোর্ট  ছাড়া ভারত ফেরার উপায় খুঁজছিলেন গৃহবধূ ফাল্গুনী।এক পর্যায়ে সীমান্ত পেরোতে গিয়ে বিজিবির হাতে আটক হয়। পরবর্তীতে বাংলদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে মহেশপুর থানায় মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। ঠাঁই হয় জেলখানায়।

দুটি মামলায় তার জেল হয় ৪ মাস ৫ দিন। কারা মেয়াদ শেষ হলেও দু’দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় জটিলতায় তাকে ৮ মাস ১০ দিন কারাগারে থাকতে হয়। এরপর তাকে ভারতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১০ জানুয়ারি ঝিনাইদহ থেকে আনা হয় চুয়াডাঙ্গা কারাগারে।

যাচাই বাছাই শেষে ভারতীয় দুতাবাস গত ডিসেম্বর মাসে ছাড়পত্র দেন। পরবর্তীতে জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যভাগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুরক্ষা বিভাগ থেকে চুড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন থাকবার কারনে ফেরত পাঠানো সম্ভবপর হয় নি।

দীর্ঘ ৮ মাসের আইনি জটিলতা শেষে সোমবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশের দর্শনা বন্দরের আইসিপি সীমান্ত  দিয়ে ভারতের গেদে সীমান্তের বিএসএফ’র কাছে হস্তান্তর করে ফাল্গুনী রায়কে।

হস্তান্তরের সময় দর্শনা বন্দর সীমান্ত এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ, কাস্টমস-ইমিগ্রেশন, থানা পুলিশ, এনজিও, মানবাধিকার সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। দেশে ফিরতে পেরে খুব খুশি ফাল্গুনী রায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × three =