নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোলকাতা :: মঙ্গলবার ২৩,জুন :: রাজ্যে শিল্পায়নের নামে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার বিধানসভায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি দাবি করেন, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন শিল্প প্রকল্প ও বিনিয়োগ চুক্তির আড়ালে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক তছরুপ হয়েছে বলে একাধিক নথি ও ফাইল থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী কয়েকটি পুরনো প্রশাসনিক ফাইল ও সরকারি নথির উল্লেখ করেন।
তাঁর অভিযোগ, শিল্প আনার নামে বিভিন্ন সংস্থা ও প্রকল্পকে সুবিধা পাইয়ে দিতে সরকারি জমি বরাদ্দ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ভর্তুকি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। বেশ কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলেও সরকারি অর্থ ব্যয় হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বণিকসভা ‘ফিকি’ (FICCI)-কে সরাসরি ৩২৪.৭৩ কোটি টাকা পাইয়ে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাজেট অধিবেশনে ফাইলটি তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, “আপনার নেত্রী কী কী কাণ্ড ঘটিয়েছেন দেখুন |
এই বাণিজ্য সম্মেলনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজে একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণের করের টাকা কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব রাজ্যবাসীর সামনে আনা দরকার। কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকলে দোষীদের আইনের মুখোমুখি করতেই হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী আরও জানান, প্রয়োজনে আর্থিক তছরুপের তদন্তে কেন্দ্রীয় বা বিশেষায়িত তদন্তকারী সংস্থার সহযোগিতা নেওয়ার দাবি জানানো হবে। তাঁর মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের সম্ভাব্য উদাহরণ হতে পারে।
অভিযোগের জবাবে বিরোধী সদস্যরা সরকারে পক্ষের বক্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্য, শিল্পায়নের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে এখন ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকার বরাবরই স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করেছে এবং সমস্ত প্রকল্প নির্ধারিত নিয়ম মেনেই অনুমোদন পেয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেন। তবে বিরোধী ও শাসক দলের তীব্র বাক বিতণ্ডায় দিনের বেশ কিছুটা সময় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অধিবেশন। স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত পুরনো সিদ্ধান্তগুলিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ায় আগামী দিনে বিষয়টি আরও রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে পারে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নথিপত্রের নিরপেক্ষ পর্যালোচনার দাবিও উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
উল্লেখ্য, এই অভিযোগগুলির স্বপক্ষে এখনও কোনও স্বাধীন তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

