সজল দাশগুপ্ত :: সংবাদ প্রবাহ :: স্পোর্টস ডেস্ক :: মঙ্গলবার ১৬,জুন :: ভারত এখনও পর্যন্ত ফিফা বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলতে পারেনি। কিন্তু ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজন ফুটবলার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম হল নিউজিল্যান্ডের সরপ্রীত সিং এবং অস্ট্রেলিয়ার নিশান ভেল্লুপিল্লাই ।
দু’জনই ভিন্ন দেশের জার্সি গায়ে খেললেও তাঁদের পারিবারিক শিকড় ভারতের মাটিতে প্রোথিত। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁদের উপস্থিতি ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আবেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।
সরপ্রীত সিং: পাঞ্জাবের শিকড় থেকে নিউজিল্যান্ডের তারকা
অকল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সরপ্রীত সিংয়ের পরিবারের শিকড় ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ফুটবলের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ধীরে ধীরে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলেও সুযোগ পান এবং জার্মানির ক্লাব ফুটবলে খেলেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে তিনি ইতিহাস গড়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে নিউজিল্যান্ডের হয়ে মাঠে নেমে তিনি ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচে শুরু থেকে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে নজির স্থাপন করেন। এই কৃতিত্ব শুধু নিউজিল্যান্ডের জন্য নয়, সমগ্র ভারতীয় প্রবাসী সমাজের কাছেও গর্বের মুহূর্ত।
সরপ্রীতের খেলার বৈশিষ্ট্য হল বল নিয়ন্ত্রণ, সৃজনশীল পাস এবং আক্রমণভাগে সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা। নিউজিল্যান্ডের মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা তিনি।
নিশান ভেলুপিল্লাই অস্ট্রেলিয়ার নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি ।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জন্ম নেওয়া নিশান ভেলুপিল্লাইয়ের পরিবারের শিকড় দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুতে। তাঁর মা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান বংশোদ্ভূত এবং পরিবারের সঙ্গে ভারতের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আজও বজায় রয়েছে।
মেলবোর্ন ভিক্টরির যুব অ্যাকাডেমি থেকে উঠে আসা নিশান দ্রুতই অস্ট্রেলিয়ার ফুটবলে নিজের পরিচয় তৈরি করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে তিনি বিশ্বকাপে অভিষেক করেন। এর মাধ্যমে তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বকাপে খেলা ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন
উইঙ্গার হিসেবে তাঁর গতি, ড্রিবলিং এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণভাগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সরপ্রীত সিং ও নিশান ভেলুপিল্লাইয়ের সাফল্য দেখিয়ে দিচ্ছে যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল প্রতিভার অভাব নেই। যদিও তাঁরা ভারতের হয়ে খেলছেন না, তবুও তাঁদের উপস্থিতি বিশ্বকাপে ভারতীয় পরিচয়ের এক বিশেষ প্রতিনিধিত্ব বহন করছে।
অনেক ক্রীড়া বিশ্লেষকের মতে, এই ঘটনাগুলি ভারতীয় ফুটবল প্রশাসনের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—সঠিক পরিকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং যুব উন্নয়ন কর্মসূচি থাকলে ভারত থেকেও ভবিষ্যতে বিশ্বমানের ফুটবলার উঠে আসতে পারে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক অন্যরকম আনন্দ নিয়ে এসেছে। ভারতের জাতীয় দল না থাকলেও সরপ্রীত সিং ও নিশান ভেলুপিল্লাইয়ের মতো ফুটবলাররা প্রমাণ করেছেন যে ভারতীয় শিকড়ের প্রতিভা বিশ্বের সর্বোচ্চ ফুটবল মঞ্চেও উজ্জ্বল হতে পারে।
তাঁদের সাফল্য আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে এবং ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশার আলো জ্বালাবে।

