সুদেষ্ণা মন্ডল:: সংবাদ প্রবাহ :: ক্যানিং :: প্রকাশ্য দিবালোকে তিন তৃনমূল কর্মীকে গুলি করে কুপিয়ে খুনের ঘটনার এবার উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুরনো শত্রুতা জেরে তিন তৃণমূল কর্মী খুন করা হয়েছে। ক্যানিংয়ে ৩ তৃণমূল নেতা কর্মী খুনের ঘটনায় এমনটাই মনে করেছে তদন্তকারীরা। খুনের ঘটনায় এখনও রাজনৈতিক কোনও তথ্য মেলেনি বলে খবর। পাশাপাশি তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এই তিন খুনের মামলায় সন্দেহভাজন মূল অভিযুক্ত রফিকুল। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোন যোগ নেই এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করে তৃণমূল নেতা। তৃণমূল নেতা বাদল নস্করের দাবি, বছর দেড়েক আগে রফিকুলকে গ্রেফতার হয় এনডিপিএস মামলাতে।

জেল থেকে বেরনোর পর ওই সন্দেহভাজন অভিযুক্ত বাদলের উপর হামলা চালায়। বাদল নস্কর তৃণমূলের একজন সক্রিয় কর্মী। তখন বাদলকে বাঁচান পঞ্চায়েত সদস্য স্বপন মাজি। তারপর থেকেই স্বপনের উপর রাগ ছিল ওই সন্দেহভাজন অভিযুক্তের। আর তার জেরেই এই ঘটনা বলে অনুমান।

স্বপনই ছিল মূল টার্গেট। মনে করছেন তদন্তকারীরা। বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছ ৪ সদস্যের সিআইডির প্রতিনিধি দল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, যে রাস্তা দিয়ে বাইকে করে আসছিলেন স্বপনরা, তার উল্টোদিক থেকে একটি বাইকে করে আসে আততায়ীরা। রাস্তা আটকে দাঁড়ায় স্বপনদের।প্রথমে স্বপনকে গুলি করে। তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর বাকি দু’জনকে খুনের পর পালায় অভিযুক্তরা। একজন বাইকে করে পালায়। অন্য তিনজন মাঠ দিয়ে দৌড়ে পালায়।

পুলিশ মনে করছে, আগে থেকে মাঠের পাশে বসে অপেক্ষা করছিল ওই আততায়ীরা। ওই রাস্তা দিয়েই যে স্বপনরা মিটিংয়ে যাবেন, আগে থেকে তার খবর ছিল দুষ্কৃতীদের কাছে। একটি বাইকে করে আসে চারজন।

ঘটনাস্থল থেকে গুলি উদ্ধার করেছে পুলিস। মূল অভিযুক্তের সঙ্গী বাকি তিনজনকেও চিহ্নিত করেছে পুলিস। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে সিআইডি টিমও। সিদ্ধিনাথ গুপ্ত ডিআইজি সাউথ বেঙ্গল বলেন, এখন তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে আমরা অনেকগুলো সূত্র পেয়েছি। খুব দ্রুত মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারব।এই ঘটনা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, কিছু হলে আগে তৃণমূল দাবি করত যে সিপিএম করেছে, এখন বলছে বিজেপি করেছে। এইটা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। এখন কে কত বড় নেতা হয়েছে সেটাই টেক্কা দেয়ার রাজনীতি চলছে রাজ্যে।

ক্যানিংয়ের ঘটনায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, বিজেপি কর্মীরা সমর্থকেরা দীর্ঘদিন ঘর ছাড়া। ওখানে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তৃণমূলের মধ্যে তৃণমূলের ঝামেলা হয়। আজকের এই ঘটনা তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে হয়েছে।