সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: রবিবার ৩০,আগস্ট :: শহর থেকে ডেঙ্গি পুরোপুরি নির্মূল করতে একযোগে ময়দানে নামল কলকাতা পুরসভা (KMC) এবং মেট্রো রেলওয়ে। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশন থেকে শুরু হলো ভেক্টর কন্ট্রোল বা ডেঙ্গি প্রতিরোধের বিশেষ যৌথ অভিযান।
আজ থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ ডেঙ্গি প্রতিরোধ অভিযান চলবে আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কলকাতা পুরসভা ও মেট্রো রেলের যৌথ প্রতিনিধি দল অভিযান চালাবে:* শহরের সমস্ত মেট্রো স্টেশন ও স্টেশন চত্বরে। * দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশন ও ট্রেনের কারশেডে।* রেল আবাসন এলাকা গুলোতে।
যৌথ নেতৃত্ব: কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ও কমিশনার স্মিতা পান্ডে এবং মেট্রোর পিসিএমও ড. রীনা মুখার্জির যৌথ উদ্যোগে এই সচেতনতামূলক ও মশা নিধন অভিযান চালানো হচ্ছে।
ধারা ৪৯৬ (496) নোটিস: যে সমস্ত পরিত্যক্ত জমি বা প্রাঙ্গণে ঝোপঝাড় হয়ে জল জমে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পুরসভার ধারা অনুযায়ী সেই জমির মালিকদের ৪৯৬ নোটিস জারি করা শুরু হয়েছে।
জরিমানা ও বিকল্প শাস্তি:
নিষিদ্ধ প্লাস্টিক বা নোংরা যত্রতত্র ফেললে পরিদর্শন শেষে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
যত্রতত্র থুথু বা নোংরা ফেললে কেবল জরিমানা নয়, অপরাধীকে দিয়ে সেই জায়গা পরিষ্কার করিয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের চলাচলের জন্য অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩ অংশ) জায়গা খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেআইনি পার্কিং ও রাস্তা আটকে গাড়ি রাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নাইট পার্কিং ফি দিয়ে নির্ধারিত স্থানে গাড়ি রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: মেট্রো ও রেলের পর আগামী দিনে সেচ, গণপূর্ত (PWD) এবং অগ্নিনির্বাপক (Fire) দপ্তরের মতো অন্যান্য সরকারি বিভাগের সঙ্গে যৌথভাবে সারা রাজ্য জুড়ে এই ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ বিষয়ক অভিযান চালানো হবে।
“এই লড়াই কেবল সরকারের একার নয়, একে গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে। সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে এবং সাহায্য না করলে ডেঙ্গি নির্মূল করা সম্ভব নয়। বাড়িতে বা টবে জল জমতে দেওয়া যাবে না, জলের ট্যাঙ্কি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। আগামী ৩রা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই ড্রাইভ টানা চলবে।
এর পাশাপাশি শেক্সপিয়র সরণি বা ক্যামাক স্ট্রিট অঞ্চলে মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই ঝুলে থাকা বিপদজনক কাঠামো বা বেআইনি নির্মাণ অপসারণ করা হয়েছে। আইন সবার জন্যই সমান এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।”

