অবিরাম বৃষ্টির জেরে খানাকুলের বেশ কিছু এলাকায় নদীবাঁধের অবস্থা ক্রমশই বিপদের দিকে এগোচ্ছে

জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: আরামবাগ :: মঙ্গলবার ২১,জুলাই :: অবিরাম বৃষ্টির জেরে খানাকুলের বেশ কিছু এলাকায় নদীবাঁধের অবস্থা ক্রমশই বিপদের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষত, এখানকার বালিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব রাধানগর গ্রামে নদীবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ।

এই এলাকার উপর দিয়ে প্রবাহিত মুণ্ডেশ্বরীর একটি শাখানদীর বাঁধের একাধিক অংশে ধস নামায়, চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।

দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হলেও, প্রশাসনের তরফে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়দের দাবি, নদীবাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ায় বর্ষা এলেই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নদীর জল ফুলে-ফেঁপে উঠলেই বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এর ফলে বহু বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। অনেক পরিবারকে বার বার ভিটেমাটি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

এখনও বহু মানুষ অস্থায়ী ত্রিপলের ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। শুধু বসতবাড়িই নয়, প্রতি বছর শত শত বিঘা কৃষিজমির ফসলও বন্যার জেরে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েন এলাকার কৃষকরা।

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বহু বার প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সেচ দপ্তরের কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং ভাঙন রোধের আবেদন জানানো হলেও, বাস্তবে তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আরামবাগের এসডিও বা সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রশাসনিক কর্তারা এখনই যে বিপদ হবে, সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে তাঁরা জানান, আগাম ভাবেই ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত আছে। খানাকুলে একেবারে রূপনারায়ণের পাশেই অবস্থিত ধান্যঘোরি গ্রাম পঞ্চায়েত।

এই পঞ্চায়েতের প্রধান কার্তিক ঘড়া বলেন, ‘জল বাড়লেও, এখনই বিপদের কোনও আশঙ্কা নেই। তবে পঞ্চায়েত ত্রাণ সামগ্রী বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস প্রস্তুত রেখেছে। ভয়ের কোনও কারণ নেই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 2 =