নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বাঁকুড়া :: বুধবার ১৫,জুলাই :: নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে রাজ্যজুড়ে যখন জলছবি, তখনই সামনে এল বাঁকুড়ার এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চরম বেহাল দশা! খাতড়া ব্লকের গোড়াবাড়ি কংসাবতী কলোনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ছবি দেখে চোখ কপালে ওঠার জোগাড়।
শ্রেণিকক্ষের ভেতরেই থইথই করছে জল। আর সেই জলের মধ্যেই টেবিলের ওপর পা তুলে বসে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে একরত্তি শিশুরা। নেই শৌচাগার, নেই পানীয় জলের ব্যবস্থা। সাপখোপের আতঙ্ক আর শর্ট সার্কিটের ভয় নিয়েই চলছে পঠনপাঠন। প্রশাসনের দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও সুরাহা মেলেনি কিছুই।
সমস্যার শুরু স্কুলের সদর দরজা থেকেই। সঠিক নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় স্কুলের সামনের রাস্তা এখন কার্যত পুকুর। আর ১৯৮৪ সালে তৈরি এই অ্যাসবেস্টসের ছাউনিযুক্ত ভবনটি এখন আক্ষরিক অর্থেই জরাজীর্ণ। ছাউনির একাধিক জায়গা ভাঙা, দেওয়ালে ধরেছে চওড়া ফাটল।
আর জানালাগুলো এতটাই নিচু যে সামান্য বৃষ্টিতেই হুড়মুড়িয়ে জল ঢুকে পড়ে ঘরের ভেতর। গ্রীষ্মকালে আবার এই অ্যাসবেস্টসের চালের নিচে অসহনীয় গরমে টেকা দায় হয়ে পড়ে ৩৬ জন পড়ুয়ার।
এখানেই শেষ নয়, স্কুলে নেই কোনও শৌচাগার। নেই নিরাপদ পানীয় জলের সুব্যবস্থা। নলকূপের জলে অতিরিক্ত আয়রন, আর পাইপলাইনের জলও আসে না। এমন কি মিড-ডে মিলের রান্নাঘরেও জল ঢুকে পড়ায় দুপুরের রান্না করাও এক প্রকার যুদ্ধ জয়ের সমান।
সব মিলিয়ে, শিক্ষার অধিকার ও পরিকাঠামো উন্নয়নের বড় বড় দাবির মাঝে এই স্কুলটি যেন এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। এখন দেখার, এই খুদে পড়ুয়াদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন কবে ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং কবে মেলে একটি পাকা স্কুল ভবন।

