আদিবাসী গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর খুনের অভিযোগে তোলপাড় দেওয়ানদিঘি, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ২; তদন্তে ফরেন্সিক দল

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বৃহস্পতিবার ৯,জুলাই :: পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘি থানার অন্তর্গত পালিতপুর ক্যানেলপাড় এলাকায় এক আদিবাসী গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে গণধর্ষণের পর নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত তদন্তে নেমে পুলিশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে পাঁচ সদস্যের ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন একটি মাঠ থেকে ২৮ বছর বয়সি আদিবাসী গৃহবধূ রানী হেমরমের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। যদিও তাঁর শ্বশুরবাড়ি দিঘীরপাড়ে, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বাপের বাড়ি পালিতপুরে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছিলেন।

পরিবারের দাবি, স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রানী হেমরম। পরে তাঁর স্বামী বাড়ি ফিরে জানতে পারেন, স্ত্রী তাঁর খোঁজেই বেরিয়েছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর পালিতপুর ক্যানেল সংলগ্ন মাঠে তাঁর রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

খবর পেয়ে দেওয়ানদিঘি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

মৃতার পরিবারের অভিযোগ, রানী হেমরমকে প্রথমে গণধর্ষণ করা হয় এবং পরে খুন করে দেহ ফেলে দেওয়া হয়। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম সেখ আজিজুল ও সেখ ভদাই। পুলিশ জানিয়েছে, সেখ আজিজুলকে দেওয়ানদিঘি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

অপর অভিযুক্ত সেখ ভদাইকে বীরভূমের নানুর এলাকা থেকে আটক করে পরে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, অপরাধ সংঘটনের পরিস্থিতি এবং অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

পুলিশের দাবি, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

four + 11 =