নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বৃহস্পতিবার ৯,জুলাই :: রাজ্যে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে এবং নির্যাতিতাদের বিচারের দাবিতে এবার পথে নামল মহিলা কংগ্রেস। সম্প্রতি বারুইপুর, বর্ধমান এবং উত্তর ২৪ পরগনা সহ বিভিন্ন জেলায় মহিলাদের ওপর হওয়া অত্যাচার, ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার
তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে এক বিক্ষোভ পথসভার আয়োজন করা হয় বুধবার সন্ধ্যায় বর্ধমানের কার্জন গেট চত্বরে।
প্রতিবাদে শামিল হয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলা মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী কুমকুম ঘোষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আজ মহিলা কংগ্রেসের উদ্যোগে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়েছে।
বারুইপুর, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা—প্রতিদিনই আমরা এমন ঘটনার কথা শুনছি যেখানে মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে, নির্যাতিত হচ্ছে এবং তাদের খুন করা হচ্ছে। মৃতদের আত্মার শান্তির কামনার পাশাপাশি আমরা সরকারের কাছে বার্তা দিতে চাই, যাতে প্রত্যেকটি মেয়ে সঠিক বিচার পায়।
বারুইপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা এবং অভিযুক্তের এনকাউন্টারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি একে সাধারণ এনকাউন্টার মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, মূল ঘটনা এবং আসল সত্যকে আড়াল করতেই হয়তো এমনটা করা হয়েছে। এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক যোগসাজশের অভিযোগও তোলেন তিনি।
রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুমকুম ঘোষ জানান, বর্তমানে নারীরা একেবারেই নিরাপদ বোধ করছেন না।
উল্টে সমাজে বিভেদের রাজনীতির কারণে অপরাধমূলক মানসিকতা আরও উসকে দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর তোপ দাগেন।
সব মিলিয়ে, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নারীদের নিরাপত্তার দাবিতে মহিলা কংগ্রেসের এই আন্দোলন আগামীদিনেও জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ সভা থেকে জেলা আইএনটিইউসি সভাপতি গৌরব সমাদ্দার ও অন্যান্য প্রতিবাদীরা দাবি জানান,
অবিলম্বে এই ঘটনার সাথে জড়িত সমস্ত আসল দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে এবং রাজ্যে নারী সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নারী সুরক্ষার দাবিতে বর্ধমানে একটি বিক্ষোভ সভার আয়োজন করা হয়। মূল বক্তব্য ও অভিযোগ আসল অপরাধীদের আড়াল করার আশঙ্কা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, এনকাউন্টারে নিহত ব্যক্তিই ছিল একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী যে মুখ খুলছিল এবং বাকিদের নাম বলা শুরু করেছিল। রাতের অন্ধকারে তাকে এনকাউন্টার করে আসলে মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে।
আরজি কর-কাণ্ডের দুই মাস পার হতে না হতেই বর্ধমানের বুকে আদিবাসী নারীকে গণধর্ষণ ও খুনের মতো ঘটনা ঘটায় রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

