ধর্মস্থানের পাশে অসামাজিকতা!এলাকায় বেআইনি হুকিং করে বিদ্যুৎ লাগিয়ে তৃণমূল নেতার মদতপুষ্ট মদের ঠেক ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিলো বিজেপি

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বৃহস্পতিবার ৯,জুলাই :: বর্ধমান শহরের১২নম্বর ওয়ার্ডের কানাই নাটশাল দিঘীরপাড় এলাকায়,ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার মদের বোতল, গ্লাস ও দলীয় পতাকা,স্বস্তি এলাকার মহিলারা।

পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন কানাই নাটশাল দীঘিরপাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি অবৈধ মদের ঠেক এবং অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানা অবশেষে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিলো বিজেপি।

বিজেপি নেতৃত্বরা জানান প্রশাসনের কড়া নির্দেশে এবং বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়িকা তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের বিশেষ তৎপরতায় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এই ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা এলাকার মহিলাদের মধ্যে খুশির হাওয়া।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের তীর ১২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা অনন্ত পাল এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসীর দাবি, ব্যবসার নাম করে দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘরটিতে অবৈধভাবে মদের আসর বসানো হতো। মাঝরাতে বহিরাগত যুবকদের নিয়ে এসে চলত মদের আসর এবং অশ্রাব্য গালিগালাজ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ঠিক এই ঘরের সামনেই রয়েছে একটি দুর্গা মন্দির। পবিত্র ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা নষ্ট করে দিনের পর দিন এই অপকর্ম চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এলাকার মহিলারা এর আগে বহুবার প্রতিবাদ করলেও কোনো লাভ হয়নি, উল্টে জুটেছে হুমকি এবং কটূক্তি।

এলাকার মহিলাদের ক্ষোভ তারা জানান এখানে মদের ঠেক বসার পর থেকে আমরা শান্তিতে যাতায়াত করতে পারতাম না। মহিলাদের লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হতো, প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হতো। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আতঙ্কে দিন কাটিয়েছি। ঘর খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ ।

ঘর খুলতেই ঘরের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় একের পর এক মদের বোতল, খাট ও বিছানা, তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় পতাকা এবং দলীয় কাঠামো। অবশেষে রাজ্যে রদবদলের পর, বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়িকা তথা রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্রের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন এলাকার মহিলারা।

তাঁরই কড়া নির্দেশে এলাকায় পাঠানো হয় প্রতিনিধি দল। ঘটনাস্থলে বিজেপি নেতৃত্বও উপস্থিত হন এবং অবৈধ ঘরটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। এমনকি ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগটিও নেওয়া হয়েছিল অত্যন্ত বেআইনিভাবে। পাশের ইলেকট্রিক পোল থেকে হুকিং করে সরাসরি তার টানা হয়েছিল ওই ঘরে।

সেই বেআইনি বিদ্যুতের তারও কেটে দেওয়া হয়। অবশেষে এই অবৈধ আস্তানা ভেঙে ফেলায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন কানাই নাটশাল দীঘিরপাড় এলাকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one + 7 =