একজন মাত্র শিক্ষক কিন্তু পড়ুয়া একজনও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেল নারায়ণপুর জুনিয়র হাই স্কুল

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কুশমন্ডি :: শনিবার ১৮,জুলাই :: কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৫-২৬ রিপোর্ট অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে শূন্য বা নামমাত্র পড়ুয়া থাকা স্কুলের সংখ্যা বেড়ে ৪,১৩৩টিতে পৌঁছেছে, যার মধ্যে একটি বড় অংশ হলো জুনিয়র হাই স্কুল।

এবার সেই তালিকায় জুড়লো এ রাজ্যের আরো এক সরকারি প্রতিষ্ঠান। একজন মাত্র শিক্ষক কিন্তু পড়ুয়া একজনও নেই। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ হয়ে গেল কুশমন্ডি ব্লকের কালিকামরা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ভিটা নারায়ণপুর জুনিয়র হাই স্কুল।

তৃণমূল জামানায় একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়েছে রাজ্যে। এবার বিজেপি জমানাতেও কুশমন্ডিতে বন্ধ হল এক জুনিয়র হাই স্কুল। কেন এই ধরনের স্কুলগুলো বন্ধ হচ্ছে তাহলে কি শিক্ষকের অভাব না ছাত্রছাত্রীর অভাব তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।

কুশমন্ডি ব্লকের সরকারি স্কুল বন্ধের এই ধারা নতুন কিছু নয়। গত এক বছরের মধ্যেই এই ব্লকে বন্ধ হয়েছে একাধিক জুনিয়র হাই স্কুল। এখানেই শেষ নয় প্রায় কয়েক বছর আগে পুরোপুরি তালা বন্ধ হয়ে গেল বড়ভিটা নারায়ণপুর জুনিয়র হাই স্কুল।

এই স্কুলে একমাত্র শিক্ষক রবিন খাটুয়াকে কুশমন্ডি হাইস্কুলে বদলি করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা শিক্ষা দপ্তর। দোতলা স্কুল, স্কুলে ক্লাসরুমও রয়েছে পাঁচ থেকে ছ’টি ৷

বর্তমানে সেই স্কুলের বারান্দায় বিভিন্ন পশুর থাকার জায়গা হয়ে উঠেছে। এই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ২০১৩ সালে নামে মাত্র ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াই ৬০থেকে ৭৫ ।

এলাকার গরীব এবং দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা পড়ার সুযোগ পায় এই জুনিয়র হাইস্কুলে। কারণ এই জুনিয়র হাই স্কুলের পাশেই রয়েছে বড়ভিটার প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই স্কুল থেকে প্রচুর ছাত্রছাত্রীরা এই জুনিয়র হাই স্কুলে পড়াশুনা করত পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত।

পরবর্তীতে করোনার লকডাউনের পর থেকে আবারো কমতে শুরু করলো সেই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা। এলাকাবাসীদের অভিযোগ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও প্রশাসনের তরফে শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। ফলে পরিকাঠামোর অভাবে পরের বছর থেকেই হু হু করে কমতে থাকে ছাত্র সংখ্যা।

এই ঘটনার জেরে এলাকার শিক্ষানুরাগী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই কারণে এলাকার দরিদ্র পড়ুয়ারা ভবিষ্যতের কথা ভেবেই বিভিন্ন হাই স্কুল গুলোতে ভর্তি হতে শুরু করে।এলাকাবাসীদের আরো অভিযোগ, শিক্ষকের অভাবে এই স্কুল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন পড়ুয়াদের অভিভাবকরা ৷

এলাকাবাসীদের আরো অভিযোগ কোটি কোটি টাকা খরচ করে তৈরি হওয়া ইস্কুলের পরিকাঠামো নষ্ট হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য এখন ওই জুনিয়র হাই স্কুলে ফাঁকা বিল্ডিংটি তে সমাজ বিরোধীদের আখড়ায় পরিণত হবে।।

এলাকাবাসীদের দাবি প্রশাসন যদি গুরুত্ব সহকারে এই বিষয়টি দেখে তাহলে এলাকার দুস্থ ছাত্র-ছাত্রীরা আবারও এই স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

fourteen + fourteen =