নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বানারহাট :: শনিবার ১৮,জুলাই :: উত্তরবঙ্গের বানারহাটে একের পর এক রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রথমে স্বামী-স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং পরে তাঁদের শেষকৃত্যের সময় শ্মশানে দেওরের অপঘাত মৃত্যু—
এই তিনটি ঘটনাকে ঘিরে এখন রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা এবং সম্ভাব্য ত্রিকোণ প্রেমের সূত্র খতিয়ে দেখছে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
গত বুধবার। পূর্বদুরামারির বাসিন্দা, ৩৭ বছর বয়সী চুমকি রায়ের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় মোরাঘাট জঙ্গল থেকে। মাকে খুনের খবর পেয়েই মৃতার ১৪ বছরের নাবালক ছেলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। সে জানায়, তার বাবা বিমল রায় তাকে মোবাইলে একটি ‘ভয়েস মেসেজ’ পাঠিয়েছেন।
সেই বার্তায় বিমল স্বীকার করেন যে, তিনি নিজেই তাঁর স্ত্রীকে খুন করেছেন এবং এর অপরাধবোধ থেকে তিনি নিজেও আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনার জন্য পরিবারের অন্য কেউ দায়ী নন বলেও জানান বিমল।
চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ও বনদপ্তর বুধবার রাতে মোরাঘাট জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ না মেলায়, পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ঠিক দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ ও বনদপ্তর বুধবার রাতে মোরাঘাট জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তবে গভীর রাত পর্যন্ত খোঁজ না মেলায়, পরের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ঠিক দুর্ঘটনাস্থল থেকে মাত্র ৫০ ফুট দূরে বিমল রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
দেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয় এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী দল। এরই মধ্যে শ্মশানে শেষকৃত্যের সময় মৃত ব্যক্তির দেওর আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই তৃতীয় মৃত্যুর পর গোটা ঘটনায় নতুন মোড় আসে।
তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে অশান্তি চলছিল। সেই সূত্র ধরেই সম্ভাব্য ত্রিকোণ প্রেমের দিকটি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নির্দিষ্ট তত্ত্বের সত্যতা স্বীকার করেনি।
উল্লেখ্য, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ এখনও ত্রিকোণ প্রেমকে মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ হিসেবে ঘোষণা করেনি। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং ফরেনসিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে

