নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: খণ্ডঘোষ :: শুক্রবার ৪,সেপ্টেম্বর :: দুই মহিলার আধার নম্বর হুবহু এক | এক মহিলার ফিঙ্গারপ্রিন্টে অন্য মহিলার অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও ২৭ হাজার টাকা। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ও রায়না-১ ব্লকের এই ঘটনায় ছড়িয়ে পড়ে ব্যপক চাঞ্চল্য ছড়ায় ।
দুই মহিলার নাম এক। কিন্তু এবার সামনে এল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—দুই মহিলার আধার নম্বরের ১২টি সংখ্যাই হুবহু এক ! আর সেই আধার নম্বর ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে সিএসপি থেকে এক মহিলার অ্যাকাউন্টের টাকা অন্য মহিলার হাতে চলে যাওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা।
ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ ব্লকের বাদুলিয়া এবং রায়না-১ ব্লকের পলাশন এলাকার। জানা গিয়েছে, পলাশন গ্রামের বাসিন্দা ঝর্ণা দাস গত ১০ জুলাই আধার কার্ড নিয়ে পলাশন বাজারের সাবির মোবাইল পয়েন্টের সিএসপিতে যান।
সেখানে নিজের আধার নম্বর ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে ১০, ১১ ও ১২ জুলাই—এই তিন দিনে মোট ২৭ হাজার টাকা তোলেন তিনি। এরপর গত ৩ আগস্ট হঠাৎ ওই সিএসপি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয় আরবিআই।
বিষয়টি জানতে পেরে সাবির মোবাইল পয়েন্টের কর্ণধার শেখ জাহিরুল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নিজের কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর সিএসপি থেকে ২৭ হাজার টাকার একটি প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে।
বিষয়টি জানার পর জাহিরুল যোগাযোগ করেন পলাশনের ঝর্ণা দাসের সঙ্গে। ঝর্ণা দাস জানান, তিনি নিজেই সিএসপিতে গিয়ে নিজের আধার নম্বর ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে টাকা তুলেছেন। অর্থাৎ, ভুল কোনও ব্যক্তির হাতে টাকা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরপরই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়।
জানা যায়, খণ্ডঘোষের বাদুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা আর এক ঝর্ণা দাসের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকেই ২৭ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে সাবির মোবাইল পয়েন্টের সিএসপি থেকে। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জাহিরুল যোগাযোগ করেন বাদুলিয়ায় অবস্থিত ওয়েস্ট বেঙ্গল গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায়।
সেখানেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—বাদুলিয়ার ঝর্ণা দাস এবং পলাশনের ঝর্ণা দাসের আধার নম্বরের ১২টি সংখ্যাই হুবহু এক | একই নাম, একই আধার নম্বর—আর তার জেরেই কি তৈরি হয়েছে এই বিভ্রাট? কীভাবে একই আধার নম্বর দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে থাকতে পারে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।
ঘটনার পর পলাশনের ঝর্ণা দাসকে বিষয়টি জানানো হয়। অবশেষে উভয় পক্ষ ওয়েস্ট বেঙ্গল গ্রামীণ ব্যাংকের বাদুলিয়া শাখায় উপস্থিত হন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর বিষয়টির মীমাংসা করা হয় এবং পলাশনের ঝর্ণা দাস বাদুলিয়ার ঝর্ণা দাসের অ্যাকাউন্টে ২৭ হাজার টাকা জমা করে দেন।
ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে ছোট হলেও, দুই মহিলার আধার নম্বর একই হওয়ার দাবি ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কীভাবে একই আধার নম্বর দুই ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত হল, সিএসপি-তে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের পরও কীভাবে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটল এই প্রশ্ন সকলের।

