নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কৃষ্ণনগর :: মঙ্গলবার ২৫,আগস্ট :: ঘূর্ণির শিল্পীদের স্পর্শে জলঙ্গীর পাড়ের মাটি জীবন্ত হয়ে ওঠে। সেই ঐতিহ্যের ধারাকে বিশ্ব দরবারে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন কৃষ্ণনগরের তরুণ মৃৎশিল্পী অগ্নিভ পাল।
তাঁর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় সুদৃশ্য দুর্গা প্রতিমা এবার সুদূর জাপানের মাটিতে পূজিত হতে চলেছে। আন্তর্জাতিক স্তরে এই সৃষ্টি পৌঁছে যাওয়ায় কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পী মহলে বইছে আনন্দের আবহ।
কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলা কুমোরপাড়ার বাসিন্দা অলোক পালের ছেলে অগ্নিভ কৃষ্ণনগর ডিএল (দ্বিজেন্দ্রলাল) কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
পড়াশোনার পাশাপাশি ১২-১৪ বছর বয়স থেকেই পারিবারিক সূত্রে বাবার হাত ধরে তাঁর প্রতিমা তৈরির হাতেখড়ি। বর্তমানে তিনি কৃষ্ণনগর ঘূর্ণির রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রখ্যাত শিল্পী সুবীর পালের কাছে শিল্পের পাঠ নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করছেন।
অগ্নিভর তৈরি এই প্রতিমাটির উচ্চতা প্রায় চার ফুট দু’ইঞ্চি এবং চওড়া সাড়ে চার ফুট। দীর্ঘ প্রায় তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমে রূপ পেয়েছে এই অনন্য সৃষ্টি। প্রতিমাটি অত্যন্ত নিখুঁত ও টেকসই করতে ফাইবারগ্লাসের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
প্রথমে মাটির কাঠামো তৈরি করে প্লাস্টারের ছাঁচ ঢালাইয়ের পর তা ফাইবারগ্লাসে রূপান্তর করা হয়। এরপর প্রতিমার রঙ এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে চক্ষুদান করেছেন অগ্নিভ নিজেই।
জাপানে প্রতিমা পাঠানোর সূত্রপাত কীভাবে? এ প্রসঙ্গে অগ্নিভ জানান, তিন বছর আগেও তাঁর তৈরি প্রায় আড়াই ফুট উচ্চতার একটি প্রতিমা জাপানে পাঠানো হয়েছিল। জাপানে বসবাসকারী এক পরিচিত পরিবারের মাধ্যমেই পুনরায় এই নতুন প্রতিমা তৈরির বরাত আসে তাঁর কাছে।
সম্প্রতি কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্প জিআই (GI) স্বীকৃতি লাভ করায় স্থানীয় শিল্পীদের মধ্যে নতুন উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। সেই আবহে নিজের তৈরি প্রতিমা বিদেশের মাটিতে পাড়ি দেওয়ায় গর্বিত এই তরুণ শিল্পী। ভবিষ্যতে মৃৎশিল্পকেই নিজের পেশা ও সাধনা হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান অগ্নিভ।

