নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কৃষ্ণনগর :: বুধবার ১৭,জুন :: রেলের জমি দখলমুক্ত করার অভিযানে মঙ্গলবার রাতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কৃষ্ণনগর রেল স্টেশন চত্বর। উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকার, বামপন্থী সংগঠনের কর্মী-সমর্থক এবং পুলিশের মধ্যে তীব্র বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রেল পুলিশ ও জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা করা হয়েছিল, স্টেশন চত্বর ও রেলের জমিতে থাকা সমস্ত অবৈধ দোকান, স্থাপনা এবং দখলদারি ১৬ জুনের মধ্যে সরিয়ে নিতে হবে।
সেই মর্মে নোটিশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নোটিশ জারির পর থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে বিভিন্ন হকার সংগঠন, সিটু, এসইউসিআই এবং বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি।মঙ্গলবার রাতে নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুরু হলে সেখানে উপস্থিত আন্দোলনকারীরা এর বিরোধিতা করেন।
অভিযোগ, পুনর্বাসনের কোনও নিশ্চয়তা না দিয়েই বহু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এই নিয়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, আন্দোলনে অংশ নেওয়া মহিলাদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং তাঁদের ওপর বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে সরকারি বা রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযানের সময় বুলডোজার দিয়ে স্টেশনের ওপর ও সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা একাধিক দোকান, অস্থায়ী কাঠামো এবং অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। ভাঙা হয় সিটুর একটি স্থানীয় কার্যালয়ও বলে অভিযোগ। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন গোটা স্টেশন চত্বরে চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়।
অভিযান শেষে বিক্ষোভকারীরা রেল কর্তৃপক্ষ, পুলিশ প্রশাসন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, গরিব হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রেল সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে থাকা রেলের সম্পত্তি উদ্ধার এবং যাত্রী নিরাপত্তার স্বার্থেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আগামী দিনে এই ইস্যুতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন হকার সংগঠন।

