নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: রবিবার ১২,জুলাই :: একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয়ে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃনমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বর্ধমান-দুর্গাপুর তৃনমূলের সাংসদ কীর্তি আজাদ। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক ইস্যুতে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
সম্প্রতি সংসদে গুন্ডা দমন সংক্রান্ত বিল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা একসময় নিজেরাই গুন্ডামি করেছে, তারাই আজ গুন্ডা দমনের বিল আনছে। এর থেকে বড় পরিহাস আর কিছু হতে পারে না”।
দলীয় কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে সাংসদ বলেন, “আমি আগামী এক বছর রোজগারের দিকে মন দেব না। শুধুমাত্র আমাদের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের বিরুদ্ধে যে অসংখ্য মামলা দায়ের হয়েছে, সেই মামলাগুলি লড়াই করাই হবে আমার প্রধান কাজ”।
তিনি দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৪ হাজার তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাঁদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং পাশে দাঁড়ানোই এখন দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর কথায়, “আজ বহু তৃণমূল কর্মী নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় মানবিক এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব”।
এদিন বর্ধমান–পূর্বের সাংসদ শর্মিলা সরকারকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “শর্মিলা সরকার তৃণমূলের সময়েই সাংসদ হয়েছেন। দল ছেড়ে এখন তিনি কোথায়?
একুশে জুলাইয়ের প্রস্তুতি বৈঠককে ঘিরে এদিন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। আগামী শহিদ দিবসের কর্মসূচি সফল করতে সাংগঠনিক প্রস্তুতি, কর্মীদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

