আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শুক্রবার ৮,মে :: মেদিনীপুরের যে ভূমিপুত্র একসময় তৃণমূলের ভিত গড়েছিলেন, আজ তিনিই সেই শুভেন্দু অধিকারী শাসনকাল সমাপ্ত করে নতুন ভোরের ডাক দিলেন।
রাজনীতির ময়দানে দীর্ঘ লড়াই, সংগঠন গড়ার দক্ষতা এবং একের পর এক রাজনৈতিক পালাবদলের সাক্ষী থেকেছেন শুভেন্দু অধিকারী । ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে এসে অবশেষে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসা—এই যাত্রাপথ এখন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে অন্যতম আলোচিত অধ্যায়।
পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথির রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম শুভেন্দুর। তাঁর বাবা শিশির অধিকারী বহুদিন ধরেই বাংলার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তবে পারিবারিক পরিচয়ের বাইরেও নিজস্ব সংগঠন ক্ষমতা ও জনসংযোগের জোরে দ্রুতই আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন শুভেন্দু।
কলেজ জীবন থেকেই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। বিভিন্ন শিক্ষা ও স্থানীয় ইস্যুতে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনীতির প্রথম সারিতে উঠে আসেন। পরে যুব সংগঠনের দায়িত্ব সামলে জেলার গণ্ডি পেরিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় মোড়। নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে সামনের সারির নেতা হিসেবে উঠে আসেন শুভেন্দু।
সেই আন্দোলনই তৎকালীন রাজ্য রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করে দেয়। আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই সাধারণ মানুষের কাছে “মাঠের নেতা” হিসেবে পরিচিতি পান তিনি।
পরবর্তীতে রাজ্যের শাসকদলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু অধিকারী। একাধিকবার সাংসদ ও বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবহণ, সেচসহ বিভিন্ন দফতরের দায়িত্বও সামলেছেন।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে তাঁকে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে দেখা হত।
তবে রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় অধ্যায় আসে দলবদলের মাধ্যমে। দীর্ঘদিনের পুরনো দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন পড়ে যায়। বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি রাজ্যের প্রধান মুখগুলির অন্যতম হয়ে ওঠেন।
একের পর এক জনসভা, তৃণমূল স্তরে সংগঠন বিস্তার এবং আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান তাঁকে বিজেপির রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে নিয়ে আসে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির নিরঙ্কুশ সাফল্যের পর মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত দলীয় পরিষদীয় বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর নামেই সিলমোহর পড়ে। শপথ গ্রহণের দিন আগামীকাল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড এ হয়তো নামবে সাধারণ মানুষের ঢল । “পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়” স্লোগানে মুখর হয়ে উঠবে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই প্রশাসনিক সংস্কার, শিল্প বিনিয়োগ, আইনশৃঙ্খলা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র নেতা থেকে বাংলার প্রশাসনিক শীর্ষপদে পৌঁছনোর এই যাত্রা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।

