জিরো টলারেন্স নীতিতে অনড় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, সিবিআইকে পূর্ণ স্বাধীনতা এবার কি বিপাকে পড়তে চলেছেন একাধিক সরকারি আমলা?

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কোলকাতা ব্যুরো :: বুধবার ১৩,মে :: দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।

দুর্নীতির অভিযোগে কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে রেয়াত করা হবে না। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই কে তদন্তে “পুরো ফ্রি হ্যান্ড” দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি একাধিক সরকারি প্রকল্প, টেন্ডার বণ্টন, নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেন নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক নথি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।

নবান্নের একাংশের মতে, কয়েকজন প্রভাবশালী আমলা ও প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্তাদের ভূমিকাও এখন তদন্তের আওতায় আসতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে নাকি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “সরকারি পদে বসে কেউ যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তবে তাঁকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই প্রশাসনিক ভবনে চাপা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিগত সরকার দুর্নীতির একাধিক তদন্তের কাজ সুকৌশলে আটকে রেখেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থা কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইলে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো।

সেই সুযোগ নিয়ে গত চার বছর ধরে সিবিআই-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন সেই সমস্ত ফাইল থেকে জট সরিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অবাধ তদন্তের সবুজ সংকেত দিয়ে দিল নতুন সরকার।

বিশেষ করে যেসব দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ছিল, সেসব বিভাগের আধিকারিকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা বেড়েছে বলে খবর। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকারের এই অবস্থান রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড়সড় বার্তা দিচ্ছে।

বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, অতীতে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ চাপা পড়ে গিয়েছিল, এবার সেগুলির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আইন তার নিজের পথে চলবে। কেউ যত বড় পদেই থাকুন না কেন, দুর্নীতির প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফে দাবি করা হয়েছে, তদন্ত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও আইনি প্রক্রিয়া মেনেই চলবে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ বলে সরকারের বক্তব্য।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পুরনো ফাইল, আর্থিক অনুমোদন ও নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা প্রয়োজনে একাধিক বর্তমান ও প্রাক্তন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন বলেও জল্পনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া অবস্থান আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এখন নজর, তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং সত্যিই কোনও প্রভাবশালী আমলার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করা হয় কি না।

শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিগত সরকার দুর্নীতির একাধিক তদন্তের কাজ সুকৌশলে আটকে রেখেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে তদন্তকারী সংস্থা কোনো সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চাইলে রাজ্যের অনুমোদনের প্রয়োজন হতো।

সেই সুযোগ নিয়ে গত চার বছর ধরে সিবিআই-এর চারটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার অনুমোদন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এদিন সেই সমস্ত ফাইল থেকে জট সরিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অবাধ তদন্তের সবুজ সংকেত দিয়ে দিল নতুন সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

five − 4 =