সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: শনিবার ৫,সেপ্টেম্বর :: ঢাকুরিয়ার একটি নামী সুইমিং ক্লাবে সাঁতার কাটতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ১৬ বছরের কিশোর সরিপ ঘোষের।
আচমকা জলে তলিয়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একটি প্রশিক্ষিত ও সুপরিচিত সুইমিং ক্লাবে কীভাবে মাত্র ১৬ বছরের এক কিশোর দীর্ঘক্ষণ জলের নীচে থেকে গেল—সেই প্রশ্নই এখন সামনে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সাঁতার কাটার সময় কোনও এক পর্যায়ে সরিপ জলে তলিয়ে যায়। তাঁকে দেখতে না পেয়ে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে জল থেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে ক্লাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। সুইমিং পুলে সেই সময় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড বা প্রশিক্ষিত নজরদারি কর্মী ছিলেন কি না, সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার ছবি ধরা পড়েছে কি না, এবং দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হতে কতটা সময় লেগেছিল—এসবই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও বড় প্রশ্ন,অভিজ্ঞ সাঁতারু সরিপ কীভাবে জলের তলায় চলে গেলেন এবং আশপাশে থাকা প্রশিক্ষক বা নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বুঝতে পারলেন না কেন?
পুলের গভীরতা, সাঁতার প্রশিক্ষণের সময় নজরদারির নিয়ম এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধার-পরিকাঠামো যথেষ্ট ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এর আগেও কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় সুইমিং পুলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৬ সালের জুনে দক্ষিণ কলকাতার চেতলা অগ্রণী ক্লাবের পুলে ১৯ বছরের এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যুর পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছিল এবং ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণের কথা জানিয়েছিল।
ফলে ঢাকুরিয়ার এই ঘটনাতেও স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একই প্রশ্ন—সাঁতার শেখার বা সাঁতার কাটার জায়গাতেই যদি একজন কিশোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়, তাহলে দায় কার? সরিপ এর পরিবারের কাছে এই মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং এক গভীর শোকের ঘটনা।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তাঁরা নিশ্চয়ই তদন্তের ফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। পুলিশি তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, পুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সরিপ এর মৃত্যু নিছক দুর্ঘটনা, নাকি কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল—তদন্তেই তার উত্তর মিলবে।

