সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ ::কলকাতা :: বুধবার ২৪,জুন :: কলকাতার তারাতলা এলাকায় একটি নির্মীয়মান চা সংরক্ষণ গুদামের একাংশ হঠাৎ ভেঙে পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে এ পর্যন্ত ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে নির্মাণাধীন একটি গুদামের ছাদ হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ায় এলাকায় নেমে এসেছে চরম আতঙ্ক।
ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অসমর্থিত সংবাদ ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে | ঠিক কতজন শ্রমিক এখনো নীচে আটকা পড়ে আছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
ঘটনায় ইতিমধ্যেই নবান্নের তরফে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। চালু করা হয়েছে একাধিক নম্বর। সেগুলো হল, 1070, 8697981070, 033 22143526 ও 033 22535185।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও ইন্দ্রনীল খাঁ । উদ্ধারকারীদের সঙ্গে কথা বলে তিনি দ্রুততম সময়ে আটকে পড়াদের উদ্ধার করার নির্দেশ দেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “মানুষের জীবন রক্ষাই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনের সবরকম সাহায্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।” নবান্ন সূত্রে খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলের দিকে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা।
জায়গা দিয়ে প্রথমে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। পরে উপরের দিকে মাঝ বরাবর লোহার বিম কেটে ফাঁকা স্থান তৈরি করা হয়।
সেখান দিয়ে ভিতরে যাতে হাওয়া ঢুকতে পারে, জল পৌঁছে দেওয়া যায়, তার বন্দোবস্ত করেন উদ্ধারকারীরা। ওই ফাঁকা অংশ দিয়ে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের দেখা গিয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে তদন্ত। গুদামের কাঠামোগত দুর্বলতা, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা সংস্কারকাজে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘটনাস্থলের চারপাশ ঘিরে রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও প্রশাসনের তরফে শান্ত থাকার আবেদন জানানো হয়েছে। রাত পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চলবে বলে জানিয়েছেন দমকল আধিকারিকরা।
ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

