দলত্যাগ আইন এড়াতে নতুন চাল ? ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টিতে যোগের পথে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক :: রবিবার ১৪,জুন :: লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন মোড় নিল।

বিদ্রোহী শিবিরের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার দাবি করেছেন, তৃণমূলের একাধিক বিদ্রোহী সাংসদ এবার ত্রিপুরাভিত্তিক একটি ছোট রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতা এড়িয়ে সংসদে একটি নতুন রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করা।

দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা-র সঙ্গে বৈঠকের পর বিদ্রোহী শিবির সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে বর্তমানে ২০ জনেরও বেশি সাংসদ তাঁদের পাশে রয়েছেন। এমনকি সংখ্যাটি ২২-এ পৌঁছতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।যদি সত্যিই তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন, তাহলে দশম তফসিলের অধীনে দলত্যাগ আইনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার আইনি যুক্তি তাঁরা তুলে ধরতে পারেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, বিজেপিতে সরাসরি যোগ না দিয়ে একটি পৃথক রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নিজেদের সংগঠিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে।

এর ফলে একদিকে যেমন দলত্যাগের অভিযোগের মোকাবিলা সহজ হতে পারে, অন্যদিকে এনডিএকে সমর্থন করেও আলাদা রাজনৈতিক পরিচয় বজায় রাখা সম্ভব হবে। বিদ্রোহী সাংসদদের একটি অংশ ইতিমধ্যেই এনডিএ নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে খবর।

অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে দাবি করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তৃণমূল একটি অবিভক্ত রাজনৈতিক দল এবংকোনও পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত নয়। দলীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, বিদ্রোহীদের দাবি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় করে দেখানো হচ্ছে এবং সাংসদদের প্রকৃত সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে দলের সাংগঠনিক রদবদল শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী বলে চিহ্নিত একাধিক সাংসদকে গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্রোহী শিবির যদি সত্যিই অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিয়ে সংসদীয় স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তা তৃণমূলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ভাঙনের নজির হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমানে নজর লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক ব্লক বা নতুন রাজনৈতিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া হবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে এই রাজনৈতিক নাটকের পরবর্তী অধ্যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen − 6 =