কুমার পঙ্কজ :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি :: সোমবার ৮,জুন :: জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা। রবিবার গভীর রাতে দিল্লিতে দলের প্রায় ২০ জন সাংসদের এক গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
সেই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রবীণ সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে একাংশের মধ্যে অসন্তোষ জমছিল।
রবিবারের বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান, সংসদে কৌশল এবং দলীয় পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। যদিও বৈঠকে উপস্থিত কোনও সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেননি, তবু রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
বৈঠকে উপস্থিত থাকা সাংসদদের মধ্যে বর্ধমান পূর্বের শর্মিলা সরকার, হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, কোচবিহারের জগদীশ চন্দ্র বসুনিয়া, বাঁকুড়ার অরূপ চক্রবর্তী, ঝাড়গ্রামের কালীপদ সোরেন, বোলপুরের অসিত মাল, মথুরাপুরের বাপি হালদার এবং রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় ।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সাংসদদের একটি অংশ লোকসভার স্পিকারের কাছে নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে সংসদে তাঁদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করার দাবিও করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ কার্যত সংসদের ভেতরে একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে,
যদি লোকসভার স্পিকার এই আবেদন গ্রহণ করেন, তাহলে তা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদীয় শক্তির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সংসদে দলীয় হুইপ, কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব এবং বিরোধী রাজনীতির সমীকরণেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এদিকে সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগকে ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে পরিচিত এই প্রবীণ সাংসদের সিদ্ধান্তকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সূচনা হতে পারে।
দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, এই গোষ্ঠী কি শুধুমাত্র সংসদীয় মঞ্চে পৃথক অবস্থান নিতে চাইছে, নাকি ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির দিকেও এগোচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংসদরা এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও দলীয় শিবিরে তৎপরতা বেড়েছে বলে খবর। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লি ও কলকাতা—দুই স্তরেই একাধিক বৈঠক শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই স্পষ্ট করবে এই সাংসদদের পদক্ষেপ কেবল চাপ সৃষ্টির কৌশল, নাকি তা সত্যিই তৃণমূলের সাংগঠনিক ও সংসদীয় কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে এই ঘটনাবলি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

