দিল্লিতে শুভেন্দুর ব্যস্ত দিন, রাজনাথ থেকে রাষ্ট্রপতি—রাতে মোদীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

আনন্দ মুখোপাধ্যায়  :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি ডেস্ক  :: শুক্রবার ২২,মে :: রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক পুনর্গঠন থেকে শুরু করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আগামী দিনের রাজনৈতিক রূপরেখা— একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখেই দিল্লিতে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ।

দিনভর তাঁর কর্মসূচিতে থাকবেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপরাষ্ট্রপতি। তবে রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে নির্ধারিত দীর্ঘ বৈঠককে ঘিরে।দিল্লির রাজনৈতিক সূত্রের খবর, এই বৈঠক শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। বরং পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে পারেন শুভেন্দু।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক দুর্নীতি তদন্ত, প্রশাসনের ভূমিকা, সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাজ্যে রাজনৈতিক সংঘর্ষের বিষয়গুলি আলোচনায় উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বিজেপি সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী কয়েক মাসে পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের রাজনৈতিক কৌশল আরও আক্রমণাত্মক হতে চলেছে। সেই রণকৌশলেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হতে পারে এই বৈঠক।

রাজ্যে সাংগঠনিক পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং জেলা ভিত্তিক আন্দোলনের রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠক ঘিরেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলা, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও সুন্দরবন এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর বিষয় উঠে আসতে পারে বলে অনুমান রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও শুভেন্দু কেন্দ্রকে অবহিত করতে পারেন বলে সূত্রের দাবি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও উপরাষ্ট্রপতির সঙ্গে শুভেন্দুর সাক্ষাৎকে আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বলেই দেখা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এই বৈঠকগুলিরও প্রতীকী গুরুত্ব রয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। সূত্রের খবর, রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের আগামী রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সম্ভাব্য প্রশাসনিক পরিবর্তনের রূপরেখা এবং কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।

পাশাপাশি রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির চলতি তদন্ত নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দিল্লিতে শুভেন্দুর এই ধারাবাহিক বৈঠক নিছক প্রোটোকল নয়; বরং তা আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার আবহে এই সফর যে বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

nineteen − ten =