নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বোলপুর :: শুক্রবার ২২,মে :: ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তকমাপ্রাপ্ত শান্তিনিকেতনে এবার উচ্ছেদের খাঁড়া। লাল বাঁধ নামে পরিচিত ঐতিহাসিক দিঘির পাড়ে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী বহু পরিবারকে এলাকা খালি করার নোটিশ দিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওই জায়গা ছাড়তে হবে বলে নোটিশে সাফ জানানো হয়েছে। আর এই নির্দেশকে কেন্দ্র করেই তীব্র উদ্বেগ, আতঙ্ক এবং উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ৫০ বছরের বসতি, হঠাৎ নোটিশে দিশেহারা বাসিন্দারা উচ্ছেদ নোটিশ হাতে পেয়ে কার্যত আকাশ থেকে পড়েছেন লাল বাঁধ এলাকার বাসিন্দারা।
তাঁদের দাবি, কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নয়, বরং প্রায় ৫০ বছর ধরে তাঁরা এই এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। কয়েক প্রজন্মের আবেগ ও জীবন জড়িয়ে রয়েছে এই মাটির সাথে। হঠাৎ করে মাত্র ১৫ দিনের সময় দিয়ে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ায় তাঁরা সম্পূর্ণ দিশেহারা।
ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের প্রশ্ন এতদিন মাথা গোঁজার পর, হঠাৎ করে আজ আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে কোথায় দাঁড়াব? রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দানা বাঁধতে শুরু করেছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের একাংশের স্পষ্ট অভিযোগ, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তাঁদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এই উচ্ছেদ নোটিশ তারই চূড়ান্ত রূপ। মানবিকতার খাতিরে বিকল্প বাসস্থানের দাবি । আপাতত শান্তিনিকেতনের লাল বাঁধ এলাকায় চরম উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
তবে এখনই কোনো আইনি বা প্রশাসনিক সংঘাতে না গিয়ে মানবিকতার খাতিরে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের কাছে কিছুটা সময় ভিক্ষা করছেন বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, কর্তৃপক্ষ যদি তাঁদের আরও কিছুটা সময় দেয়, তবে তাঁরা অন্তত মাথা গোঁজার মতো একটা বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার সুযোগ পাবেন।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের এই কড়া পদক্ষেপের পর স্থানীয় প্রশাসন বা রাজ্য সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে কোনো উদ্যোগ নেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।

