আনন্দ মুখোপাধ্যায় :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বুধবার ১৫,জুলাই :: বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন দীর্ঘ বিরতির পর কলকাতায় ফিরে আসায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলা ভাষা, সাহিত্য এবং এই শহরের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আবেগঘন সম্পর্ক থাকায় তাঁর এই আগমনকে ঘিরে পাঠকমহল, প্রকাশক এবং সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, একটি সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর কলকাতা সফর।
আজ দুর্গাপুরে একটি সভায় উপস্থিত হয়ে মন্ত্রী মননীয় দিলীপ ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে তসলিমা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ”পশ্চিমবঙ্গে অনেকেই ফিরছেন। শিল্প ফিরছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ীরাও ফিরছেন।
তসলিমা নাসরিন বিদেশে রয়েছেন। মানবতা যেখানে কষ্ট পায়, সেখানে ভারতবর্ষ যুগ যুগ ধরে আশ্রয় দিয়েছে। তিব্বতের মানুষ থেকে শুরু করে ইহুদি সম্প্রদায়-অনেকেই এখানে আশ্রয় পেয়েছেন।
তসলিমা নাসরিনও এ দেশে ছিলেন। মৌলবাদীদের চাপে তাঁকে চলে যেতে হয়েছিল। তাঁর ইচ্ছা থাকলে তিনি এখানেও থাকতে পারেন।”
অনুষ্ঠানে তাঁর সাহিত্যকর্ম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা এবং সমকালীন সমাজ নিয়ে বক্তব্য রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। আয়োজকদের তরফে তাঁর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিশেষ পর্বেরও আয়োজন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তসলিমা নাসরিনের সাহিত্য জীবন বরাবরই বিতর্ক ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। ধর্মীয় মৌলবাদের সমালোচনা এবং নারীর অধিকার নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানের কারণে নব্বইয়ের দশকে তাঁকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ইউরোপ ও ভারতের বিভিন্ন শহরে কাটালেও কলকাতার প্রতি তাঁর আবেগের কথা তিনি বহুবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
কলকাতায় তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে সাহিত্য মহলের একাংশের মত, বাংলা ভাষার অন্যতম আলোচিত লেখকের প্রত্যাবর্তন শহরের সাংস্কৃতিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করবে। অনেক প্রকাশকও আশা প্রকাশ করেছেন যে, ভবিষ্যতে তাঁর নতুন বই প্রকাশ, পাঠক-আলোচনা এবং সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অতীতে তাঁর কলকাতা অবস্থানকে ঘিরে বিতর্ক এবং নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর। যদিও তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, তাঁর কলকাতায় আগমনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ তাঁর অতীতের বিতর্কিত লেখালেখি ও মন্তব্যের প্রসঙ্গও তুলেছেন।
ফলে, তাঁর এই সফর সাহিত্যিক গুরুত্বের পাশাপাশি জনপরিসরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করে বলা জরুরি—তসলিমা নাসরিন কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছেন, এমন কোনও সরকারি বা তাঁর নিজস্ব আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি। ফলে এ ধরনের দাবি বা জল্পনাকে এখনই নিশ্চিত তথ্য হিসেবে ধরা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন লেখকের সফর নয়; এটি বাংলা সাহিত্য, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং উপমহাদেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছে। আগামী দিনে তাঁর সফরের কর্মসূচি এবং বক্তব্যের দিকেই এখন নজর থাকবে সাহিত্যপ্রেমী ও পর্যবেক্ষকদের।

