নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: আমতা :: বুধবার ২৬,আগস্ট :: প্রত্যহ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে পূজা করে দিন এর কাজ শুরু করেন শ্যামসুন্দর সাঁতরা। ভারতবর্ষ ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তি হওয়ার পর এই রাজ্যে বিধান সভা (১৯৫২) নির্বাচনের ৭৪ টা বছর ভারতীয় জনতা পার্টি (বি জে পি) ক্ষমতায় আসে নি।
স্বাধীনতা প্রাপ্তির ৭৯ বছর পর এই প্রথম রাজ্যে বি জে পি সরকার গঠন করেছে। এই রাজ্যে বি জে পি কে ক্ষমতায় আনার পিছনে বর্ষীয়ান জনসংঘ ,আর এস এস, জনতা পার্টি (বি জে পি) – র নেতা -নেত্রী, কর্মী -সমর্থকদের অবদান অনস্বীকার্য।
গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার আমতা বিধান তথা আমতা থানার কুশবেড়িয়া- তাজপুর সহ সন্নিহিত এলাকার জনগণের কাছে ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় একটা আবেগের নাম।বি জে পি কর্মীদের দাঁতে দাঁত কামড়ে অত্যাচার সহ্য করার কথা ভোলে নি শ্যামসুন্দর সাঁতরা।
৭৯ বছর বয়সী শ্যামসুন্দর সাঁতরা আজ ও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় কে শ্রদ্ধা – ভক্তি- বিশ্বাস এর অটুট বন্ধনে প্রত্যহ সকালে স্নান সেরে শ্বেত শুভ্র বস্ত্রে মালা, ফুল,ধূপ সহযোগে পূজা করে দিনের কাজ শুরু করেন। তাঁর মা বাবার ফটোর সঙ্গে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ফটো পাশাপাশি রেখে পূজা করেন।
গ্ৰামীণ হাওড়া জেলার কুশবেড়িয়া গ্ৰাম পঞ্চায়েতের পানশিলা গ্ৰামে ১৯৪৭ সালের ১০ ই এপ্রিল (২৭ চৈত্র ১৩৫৩) জম্মগ্ৰহণ করেন।বাবা কানাইলাল সাঁতরা,মাতা কমলাবালা দেবী।দ্রারিদ্রের সঙ্গে তিনি লড়াই করেছেন ছোটোবেলা থেকেই। প্রথমে তিনি পানশিলা শীতলচক বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।
তারপর বাইনান বামনদাস স্কুলে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তারপর আর্থিক দ্রারিদ্রের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। সেই সময় যোগাযোগ হয় কুশবেড়িয়া নিবাসী পল্লীপ্রাণ জনদরদী, সমাজসেবী আখ্যাত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এর শিষ্য প্রসাদ চক্রবর্তীর কাছের সঙ্গী জনসংঘ – র কর্মী নন্দলাল বেরা – র সঙ্গে।
পন্ডিত গঙ্গাগোবিন্দ্র রায়ের শিক্ষায় স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ,যুবনায়ক স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গভীর প্রত্যয়ী,
নব্য আইনজীবী সৌম্যকান্তি দেবদূত সম ভাবীকালের কান্ডারী,সুবাগ্মী প্রসাদ চক্রবর্তী তাঁরই সেবা কর্মের সূতিকা গৃহের ’ আর্তত্রাণ শিবির ‘ চালু করলেন তাজপুর গ্ৰামে।
পরে ‘ বন্যাত্রাণ শিবির – ১৯৫৯ সালের বিধ্বংসী বন্যায় ‘ জাতীয় ত্রাণ শিবির ‘ ,১৯৬৬ সালে সংস্থার কার্যালয় হিসেবে নামকরণ হয় ” শ্যামাপ্রসাদ সাংস্কৃতিক শিক্ষণ শিবির ” । বর্তমানে কর্মসাধনার তীর্থভূমি সেবাব্রতী সংগঠন ” শ্যামাপ্রসাদ ইনস্টিটিউট অব কালচার “।

