নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: মেদিনীপুর :: সোমবার ১৯,আগস্ট :: টানা বর্ষণ ও ওপরের জেলাগুলি থেকে হু হু করে নেমে আসা জলরাশিতে চরম বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে কেলেঘাই নদীর জলস্তর। পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বুক চিরে বয়ে চলা এই নদীর রণমূর্তি দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
নদীর জল তীরের দিকে ধেয়ে আসায় পটাশপুর, ভগবানপুর, সবং ও পিংলা ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্লাবনের বড়সড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের একটানা বৃষ্টিতে নদীটির জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে তা বিপদসীমা অতিক্রম করে চরম বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছেছে।
নদীর বাঁধগুলি বহু জায়গায় মাটি আলগা হয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বা উপচে জল লোকালয়ে ঢুকে পড়ার ভয়ে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের গ্রামের মানুষজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জল যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, তাতে নদীর ওপরের মাটির বাঁধগুলি তা কতটা সহ্য করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য সেচ দপ্তর। দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্বল বাঁধ পরিদর্শন শুরু করেছেন।
বাঁধ সুরক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে সেচ কর্মী ও বালির বস্তার মজুত। বিপর্যয় সামাল দিতে প্রশাসনের তরফ থেকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেসকিউ টিম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে সেচ দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে, নদীর জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় নিচু এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে বা উঁচু জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।আতঙ্ক আর উদ্বেগের প্রহর গুনে কেলেঘাই নদীর উন্মত্ত রূপের দিকেই চেয়ে রয়েছেন দুই মেদিনীপুরের হাজার হাজার বাসিন্দা।

