সজল দাশগুপ্ত :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: বুধবার ২০,মে :: নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরেই একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “উত্তরবঙ্গ আমাদের অনেক কিছু দিয়েছে।
এবার সেই ঋণ শোধ করার সময় এসেছে। নতুন সরকার উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।” মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কারণ সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় শাসকদল উল্লেখযোগ্য ফল করায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উত্তরবঙ্গে পা রাখতেই তাঁকে স্বাগত জানাতে এদিন বিমানবন্দর চত্বরে কর্মী-সমর্থকদের পক্ষ থেকে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ রাজু বিস্ত ।
বিমানবন্দর থেকে সরাসরি শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক কাজকে আরও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
সেই অনুযায়ী, প্রতি সপ্তাহে একদিন করে রাজ্যের উন্নয়নমন্ত্রী উত্তরকন্যায় বসবেন এবং বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি সরাসরি পর্যালোচনা করবেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,“কলকাতাকেন্দ্রিক প্রশাসনের ধারণা বদলাতে হবে। উত্তরবঙ্গের মানুষ যাতে দ্রুত পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই উত্তরকন্যাকে আরও শক্তিশালী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
রাজ্য প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের রাস্তা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, চা শিল্প এবং সীমান্তবর্তী এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক নতুন প্রকল্পের খসড়া তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পে নতুন বিনিয়োগ টানার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী দুদিন উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করবেন তিনি।
সেখানে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি, বন্যা পরিস্থিতির প্রস্তুতি, চা বাগান এলাকার সমস্যা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসতে পারে বলে সূত্রের খবর।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও নাগরিক মহল। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গের জন্য আলাদা প্রশাসনিক গুরুত্বের দাবি উঠছিল। প্রতি সপ্তাহে মন্ত্রীর উত্তরকন্যায় উপস্থিতি প্রশাসনিক জট কমাতে সাহায্য করবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ অবশ্য এই ঘোষণাকে “নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি” বলে কটাক্ষ করেছে। তাঁদের দাবি, অতীতেও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের একাধিক ঘোষণা হয়েছিল, কিন্তু বাস্তবায়নের গতি প্রত্যাশামতো হয়নি।
যদিও শাসকদলের পাল্টা দাবি, এবারের সরকার উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে “সময়সীমাবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা” নিয়েই এগোচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গকে ঘিরে সরকারের এই নতুন তৎপরতা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে উত্তরকন্যাকে কার্যকর বিকল্প প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের বহু দাবি পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

