নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: শিলিগুড়ি :: শনিবার ১৬,মে :: কয়েকদিনের রাজনৈতিক জল্পনা ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
শনিবার সকালে শিলিগুড়ির বাসভবনে পৌঁছনোর পর তাঁকে ঘিরে ভিড় করেন দলীয় কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে বহু সাধারণ মানুষ। উপস্থিত ছিলেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও। দীর্ঘ নীরবতার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে শঙ্কর ঘোষকে প্রকাশ্যে না দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। কেউ বলছিলেন তিনি দলের উপর ক্ষুব্ধ, আবার কেউ দাবি করেছিলেন তিনি সাংগঠনিক বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। তবে শনিবার সাংবাদিকদের সামনে তিনি স্পষ্ট জানান এবার তাঁর ফিরে আসাটা অনেক বেশি প্রত্যাশাকেন্দ্রিক।
মানুষের সেই প্রত্যাশা পূরণের ভাবনা নিয়েই তিনি কাজ করবেন। ‘চাঁদের পাহাড়’ যতই ভারী হোক না কেন, শিলিগুড়ির মানুষের আশীর্বাদকে মাথায় নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের জন্য বিজেপির সংকল্পপত্র অনুযায়ী এগোবেন।
এই কাজে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশিত পথেই দল চলবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন তাঁদের কাজ করার জন্য। আমি সেই কাজই করে যাব। রাজনৈতিক চাপ বা অপপ্রচারে আমি ভয় পাই না।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খোলেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, “গণতান্ত্রিক পরিবেশকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। সাংবাদিকদের সামনে শঙ্কর ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে আগামী দিনে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
তাঁর মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আরজি কর কাণ্ড এবং ‘অভয়া’ প্রসঙ্গ তুলে ধরে শংকর মন্তব্য করেন, “ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।”
তাঁর অভিযোগ, যাঁরা এই ধরনের হীন কাজকে প্রশাসনের জামা পরানোর চেষ্টা করেছিল, তাদের রেয়াত করা হবে না। নতুন সরকার সবে শপথ নিয়েছে, তাই শুধু অভয়া নয়, সেই সময়ের প্রত্যেকটি কেস খতিয়ে দেখা হবে ।

