জাকির আলী :: সংবাদ প্রবাহ :: চুঁচুড়া :: রবিবার ১২,জুলাই :: বাবার ছোট্ট দোকানই আজ তাঁর স্বপ্ন, সংগ্রাম আর আত্মনির্ভরতার ঠিকানা। বাবার হাতে গড়া ব্যবসার হাল নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে আজ নিজের দক্ষতা ও পরিশ্রমে সংসার চালাচ্ছেন হুগলির চুঁচুড়ার কোদালিয়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের নারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা রূপা চক্রবর্তী।
চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগর সুপার মার্কেটে বহু বছর আগে রূপার বাবা একটি ছোট দোকান গড়ে তুলেছিলেন। বয়সের ভারে তিনি যখন আর নিয়মিত দোকান সামলাতে পারছিলেন না, তখন সেই দায়িত্ব তুলে দেন মেয়ের হাতে। প্রথমদিকে রূপার স্বামীও দোকানের কাজে সাহায্য করতেন।
বর্তমানে তিনি অন্য পেশায় যুক্ত থাকায় দোকানের সমস্ত দায়িত্ব একাই সামলান রূপা। সংসারের পাশাপাশি ব্যবসাও সমান দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন তিনি।
রবীন্দ্রনগর সুপার মার্কেটে শাড়ি, দশকর্মার সামগ্রী, বাসনপত্র, কাঁচাবাজার, মাছ-মাংস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের জিনিসই পাওয়া যায়।
সেই ব্যস্ত বাজারেরই একটি দোকানে সারা বছর প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী ও ব্যাগ বিক্রি করেন রূপা। তবে বিভিন্ন উৎসবকে ঘিরে সিজিন ব্যাবসা যার অর্থ মরশুমি ব্যবসাই তাঁর আয়ের অন্যতম ভরসা।
রথযাত্রা সামনে আসতেই এখন তাঁর দোকান ও বাড়ি জুড়ে রথ তৈরির ব্যস্ততা। বিশেষ বিষয় হল, এই রথ তিনি নিজের হাতেই তৈরি করেন। শুধু রথ নয়, বড়দিনের সময় নিজেই তৈরি করেন ক্রিসমাস ট্রিও।
খুচরো ও পাইকারি—দুই ধরনের ক্রেতাই তাঁর দোকানে আসেন। অনেক সময় অর্ডার পেলেই দোকানে বসে সঙ্গে সঙ্গেই রথ তৈরি করে দেন তিনি।
রূপা জানান, আগে তাঁর স্বামী রথ তৈরি করতেন। সেই কাজ দেখতে দেখতেই আগ্রহ জন্মায়। কোনও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে নয়, সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছা, পর্যবেক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে তিনি রথ তৈরির কাজ শিখেছেন। আজ সেই দক্ষতাই তাঁর ব্যবসার অন্যতম পরিচয়।
রূপার কথায়, “গত কয়েক বছর ব্যবসায় আগের মতো লাভ নেই। তবুও হতাশ না হয়ে নিজের পরিশ্রম, দক্ষতা আর আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করেই এগিয়ে চলেছি। ক্রেতাদের ভালোবাসাই আমাকে নতুন করে কাজ করার উৎসাহ দেয়।”
একজন সাধারণ গৃহবধূ থেকে স্বনির্ভর নারী হয়ে ওঠার এই গল্প শুধু একটি দোকান বা রথ তৈরির কাহিনি নয়, এটি অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং হার না মানা মানসিকতার এক অনুপ্রেরণার গল্প।
বাবার হাতে গড়া ছোট্ট দোকানকে আঁকড়ে ধরে নিজের হাতে তৈরি রথের মাধ্যমে আজও জীবনসংগ্রামে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন রূপা চক্রবর্তী।

