সুদেষ্ণা মন্ডল :: সংবাদ প্রবাহ :: বারুইপুর :: সোমবার ১৩,জুলাই :: বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এবং প্রতিবাদের আবহে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ, নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার বিচার দাবিতে চলা বিক্ষোভ ও আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, রবিবার গভীর রাতে লাহেক আলিকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। তবে গ্রেফতারের পর তাঁকে বারুইপুর থানায় রাখা হয়নি। বরং সেখান থেকে সরাসরি ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়ার কারণ নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে অনুমান করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে সামিল হন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও বিচারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় এবং একাধিক জায়গায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
পুলিশের অভিযোগ, এই আন্দোলনের সময় কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলার চেষ্টা করেন। তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে লাহেক আলীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রের দাবি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে এখনও লাহেক আলী বা সিপিআইএমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।
সূত্রের খবর, লাহেক আলিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রেখেছিলেন, আন্দোলনের পরিকল্পনা কীভাবে করা হয়েছিল এবং ঘটনার দিন বা তার পরবর্তী সময়ে তাঁর ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
প্রয়োজনে তাঁকে আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের একাংশের দাবি, নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হওয়ায় বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে লাহেক আলীকে ভবানী ভবনে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আগামী দিনে তাঁকে আদালতে কবে তোলা হবে, তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং এই মামলায় আরও কেউ পুলিশের নজরে রয়েছেন কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্য, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মিলবে, তাঁদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

