বেহাল চিত্র সামনে এসেছে বুধবার বর্ধমানের নারীর মোড় সংলগ্ন নারী দাসপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বর্ধমান :: বৃহস্পতিবার ৩,সেপ্টেম্বর :: শিশুদের শিক্ষার পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত, আর বাস্তবে তাঁরা কোথায় পড়াশোনা করছে—বর্ধমান শহরের নারী দাসপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের ছবি যেন সেই প্রশ্নই তুলে দিল।

চারদিকে জঙ্গল-জঞ্জালে ভরা স্কুল চত্বর, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, মিড-ডে মিল রান্নার জায়গাতেও আগাছা ও নোংরা আবর্জনার স্তূপ—এমনই বেহাল চিত্র সামনে এসেছে বুধবার বর্ধমানের নারীর মোড় সংলগ্ন নারী দাসপাড়া শিশু শিক্ষা কেন্দ্রকে ঘিরে।

স্কুলটির বেহাল দশার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছন ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। কোনও সরকারি বরাদ্দ বা আর্থিক সুবিধার অপেক্ষা না করে সংগঠনের সদস্যরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে স্কুল চত্বরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু করেন। জঙ্গল পরিষ্কার করার পাশাপাশি জমে থাকা আবর্জনাও সরিয়ে ফেলা হয়।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, শিশুদের মিড-ডে মিল রান্নার জায়গাটিও দীর্ঘদিন জঙ্গল ও আবর্জনায় ভরে ছিল। উত্তম মাহাতোর কথায়, স্কুলের উন্নয়ন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য দীর্ঘদিনেও তেমনভাবে কেউ এগিয়ে আসেননি।

তাঁর অভিযোগ, এই স্কুলে সরস্বতী পুজোর আয়োজনও হয় না এবং স্বাধীনতা দিবসে পতাকা উত্তোলনের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানও নিয়মিতভাবে পালিত হয় না। বর্তমানে মাত্র আট থেকে দশজন ছাত্রছাত্রী স্কুলে পড়তে আসে বলেও তিনি জানান।

এলাকার মানুষের দাবি, পরিকাঠামোর এমন বেহাল অবস্থার কারণে অভিভাবকদের মধ্যেও স্কুলটি নিয়ে অনীহা তৈরি হচ্ছে। স্কুলের সহায়িকা রূপালি কুমার দে বলেন, স্কুলের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাঁরাও বারবার উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। পঞ্চায়েতের কাছেও বিষয়টি একাধিকবার জানানো হয়েছিল।

তাঁর দাবি, দু-একবার পরিষ্কার করা হলেও ভোটের পর থেকে স্কুলটির প্রতি কার্যত আর কোনও নজর দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, নিজেদের উদ্যোগে লোক দিয়ে নিয়মিত পরিষ্কার করাতে গেলে অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই ধরনের কোনও পর্যাপ্ত ফান্ড তাঁদের হাতে নেই।

মিড-ডে মিলের জায়গায় কর্মরতদেরও বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। ফাউন্ডেশনের সদস্যরা স্বেচ্ছায় এসে স্কুল পরিষ্কার করায় তাঁরা অত্যন্ত খুশি বলেও জানান রূপালি কুমার দে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

20 + 2 =