নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: ব্যারাকপুর :: সোমবার ২৭,এপ্রিল :: সোমবার প্রচারের শেষ দিন। আগামী বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ।
এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে ব্যারাকপুরে এক জনসভা থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি । তাঁর দাবি, গত ১৫ বছরে উন্নয়নের বদলে কেবল দুর্নীতি ও গুন্ডাগিরিই দেখেছে বাংলা।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর দল কেবল তাঁকে নয়, ভারতীয় সেনা, সংবিধান এবং আদালতকেও প্রতিনিয়ত গালিগালাজ ও অপমান করে চলেছে। ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল মানুষের কাছে কোনো রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে পারেনি।
কারণ তারা কাজের বদলে কেবল দুর্নীতি করে গিয়েছে। যে স্লোগান তুলে তারা ক্ষমতায় এসেছিল, আজ তারাই সেই নাম নিতে ভুলে গিয়েছে। মানুষের জন্য কাজ করার মতো কিছুই নেই তাদের কাছে।’
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের জমানায় মানুষ কেবল শাসানি আর গুন্ডাগিরি দেখেছে। বলার মতো কিছু নেই বলেই তৃণমূল এখন একটাই ফর্মুলা নিয়েছে— গালি দাও আর মিথ্যে বলো।’
জগদ্দলের সভায় দাঁড়িয়ে মোদীর প্রতিশ্রুতি, ‘বিজেপি এলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য নতুন প্ল্যাটফর্ম হবে। স্কুলে স্কুলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের কোর্স পড়ানো হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর বলেন, ‘বাংলার সেবা করা, তাকে সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাঁকে রক্ষা করা আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট।
যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওডিশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল হলে, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ বার বাংলায় রোড শো ছিল আমার তীর্থযাত্রার মতো। সভায় আসার পথে প্রচুর উদ্দীপনা নজরে এসেছে। বাংলার মন যা বুঝছি, এ বার পদ্মফুলই ফুটবে। এখানে একটাই ফুল রয়েছে, সেটা পদ্মফুল।’
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াই শুরু হয়েছিল। এই মাটিই শক্তি জুগিয়েছিল। এই মাটি ফের বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। তাই এখন একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’

