ভিসেরা নমুনা ‘নষ্ট’ করার নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ – নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতাই

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: বৃহস্পতিবার ২,জুলাই :: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের বহুল আলোচিত চিকিৎসক-ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একাধিক দিক সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভিসেরা সংরক্ষণ ও ফরেনসিক প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম, রাজনৈতিক মহল এবং সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ নমুনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছিল কি না এবং ফরেনসিক প্রক্রিয়ায় কোনও অনিয়ম ঘটেছিল কি না। তবে এ ধরনের দাবির অনেকগুলিই এখনও তদন্ত বা বিচারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।তিলোত্তমার বাবার কাছে আসা একটি চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তদন্তের জন্য সংগৃহীত তিলোত্তমার ভিসেরা—অর্থাৎ লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে ফেলা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে মূলত দেখা হতো তিলোত্তমার শরীরে কোনো বিষক্রিয়া বা ঘুমের ওষুধের প্রভাব ছিল কি না।

কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিক এই নথিপত্র এবং নমুনা পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক ল্যাব থেকে যখন ওই নমুনা সেন্ট্রাল ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানো        উহয়েছিল, সেই যাত্রাপথেই তা বদলে ফেলা হয়েছে ।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি হলো, তৎকালীন সরকারের নির্দেশে এই জঘন্য কাজ করা হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ভিসেরা নমুনা নষ্ট করা হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওই অভিযুক্ত তিন আধিকারিক অতীতেও রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি ও সিপিএম কর্মীদের ভিসেরা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই চিঠিটি পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে তিলোত্তমার পরিবার।

অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও আদালতের রায়, সরকারি তদন্ত-রিপোর্ট বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে এই দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়, অপ্রমাণিত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সংবেদনশীল মামলায় প্রতিটি আলামতের ‘চেইন অব কাস্টডি’ (Chain of Custody) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং সংরক্ষণ-সংক্রান্ত রেকর্ডই শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

আর জি কর কাণ্ডে ফরেনসিক প্রক্রিয়া ও ভিসেরা সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করার আগে তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং আদালতের পর্যবেক্ষণের অপেক্ষাই আইনসম্মত ও দায়িত্বশীল অবস্থান গ্রহণ করতে হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

18 − 13 =