নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বাঁকুড়া :: শুক্রবার ১,মে :: ভোট শেষ, এখন শুধু ফলাফলের অপেক্ষা। কিন্তু সেই চিরাচরিত দুশ্চিন্তার ছবি নেই বাঁকুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অনুপ মণ্ডলের জীবনে। বরং অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা পথ বেছে নিয়ে তিনি ডুবে রয়েছেন নিজের পেশাতেই—চিকিৎসা পরিষেবায়।
চোখের নামী চিকিৎসক হিসেবে বাঁকুড়ায় দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ অনুপ মণ্ডল। এ বার তাঁকেই প্রার্থী করে চমক দেয় তৃণমূল। শাসকদলের লক্ষ্য ছিল, তাঁর স্বচ্ছ ইমেজ ও জনসংযোগকে হাতিয়ার করে হারানো জমি পুনরুদ্ধার করা।
প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই সেই প্রত্যাশা পূরণে একসঙ্গে দুই দায়িত্ব সামলেছেন তিনি—একদিকে রোগী দেখা, অন্যদিকে জোরকদমে প্রচার। সকালে চেম্বারে রোগী দেখা, দুপুরে অপারেশন থিয়েটারে ব্যস্ততা, আর বিকেল গড়াতেই প্রচারে বেরিয়ে পড়া—এই ছিল তাঁর রোজকার রুটিন।
রাত পর্যন্ত চলেছে জনসংযোগ। চিকিৎসকের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা প্রচারপর্বেও বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করছেন দলের কর্মীরা। ভোট মিটে গেলেও সেই ছন্দে বদল আসেনি। এখনও সকালটা কাটছে রোগীদের সঙ্গে, মাঝে কিছু সময় স্ট্রং রুমে গিয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নিচ্ছেন।
আবার দুপুরে অপারেশন সেরে বিকেলে ফের স্ট্রং রুমে হাজির—দলের নেতাদের সঙ্গে নজরদারিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি। অনুপ মণ্ডলের কথায়, “মানুষের পাশে থাকা আমার প্রথম দায়িত্ব। ভোটের পরেও সেটা বদলাবে না।”
জয়ের ব্যাপারেও আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, “মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে। ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা যাবে।” শুধু নিজের কেন্দ্র নয়, রাজ্যের ফল নিয়েও আশাবাদী তিনি। অনুপের কথায়, “১২টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ভালো ফল করবে তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।” ফল যা-ই হোক, ভোটের ময়দান পেরিয়েও যে নিজের পেশার প্রতি দায়বদ্ধতা অটুট—বাঁকুড়ার এই প্রার্থী যেন সেই বার্তাই দিচ্ছেন।

