নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: চন্ডিপুর :: বৃহস্পতিবার ৭,মে :: বুধবার রাতে শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর খবর নাড়িয়ে দিয়েছে বাংলার রাজ্য রাজনীতিকে। গোটা বিধানসভা নির্বাচনে চরম খাটুনির পর বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করতে চণ্ডীপুর গিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ।
গতকাল সেখান থেকেই ফিরছিলেন। রাস্তায় তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় বিধ্বস্ত গেরুয়া শিবির। চোখের জল ধরে রাখতে পারছে না চণ্ডীপুরও। কেউ বলছেন, ‘কারও সঙ্গে কোনওদিন ও খারাপ ব্যবহার করেনি।’ কেউ বলছেন, ‘সাত চড়ে রা কাটত না।’ ভেঙে পড়েছে তাঁর গোটা পরিবার।
কুলটা গ্রামের রথ পরিবারের বড় ছেলে চন্দ্রনাথ। ছোট ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ৬৯ বছরের বৃদ্ধা মা হাসিরানি রথকে নিয়েই ছিল তাঁদের সাজানো সংসার।
কিছুদিন আগেই তাঁর বাবা মারা গিয়েছেন। বৃদ্ধা মা ছোট ছেলে, বৌমা এবং নাতনিকে নিয়ে কুলটা গ্রামের বাড়িতে থাকলেও, চন্দ্রনাথবাবু পেশাগত ব্যস্ততার কারণে অধিকাংশ সময় জেলার বাইরেই থাকতেন।
সম্প্রতি কাজের সুবিধার জন্য মধ্যমগ্রামে একটা ফ্ল্যাটও ভাড়া নিয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে এবং প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে চন্দ্রনাথ রথ ভারতীয় বায়ুসেনায় কর্মরত ছিলেন।
সেখান থেকে অবসর নেওয়ার পর সক্রিয়ভাবে সহায়ক হিসেবে কাজ শুরু করেন। চন্দ্রনাথবাবুর মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তাঁর মা হাসিরানি দেবী বর্তমানে সম্পূর্ণ শোকবিহ্বল এবং কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। বারবার বড় ছেলের স্মৃতিচারণ করে মুর্ছা যাচ্ছেন। নিজেকে সামলে শুধু ছেলের দোষীদের শাস্তি চাইছেন তিনি।
বললেন, ‘আমি একজন মা তাই কারও ফাঁসী চাইব না, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাইছি। নতুন সরকার তৈরি হবে, তাঁদের কাছে একটাই অনুরোধ আমার ছেলের মৃত্যুর যেন বিচার হয়। ওর দুর্ঘটনা হলেও এত কষ্ট হত না আমার, ওকে যেভাবে কষ্ট পেতে হয়েছে এটা ভেবেই আমার ।
ও টার্গেট ছিল আমার মনে হয় কারণ ও তো দায়িত্বে ছিল নন্দীগ্রাম, ভবানীপুরের। মমতাকে শুভেন্দুবাবু হারিয়েছেন তাই ওকে টার্গেট করা হল।’ এলাকার মানুষ এবং তাঁর নিকট আত্মীয়দের দাবি, চন্দ্রনাথবাবু অত্যন্ত সজ্জন এবং শান্ত স্বভাবের ছিলেন।
বায়ুসেনার প্রাক্তন এই কর্মীর এমন কোনও শত্রু থাকতে পারে বলে এখনও পর্যন্ত কেউ ধারণা করতে পারছেন না। তাঁর সঙ্গে কারও কোনও পুরনো বিবাদ বা শত্রুতা ছিল কি না, তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানেন না। এসব কথা তাঁর মুখ থেকে কখনও কেউ শোনেননি পর্যন্ত।
শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গী হওয়ার কারণে এই ঘটনার গুরুত্ব প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত বেশি। পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি মধ্যমগ্রামের ভাড়া বাড়িতে একাই ছিলেন কি না, বা শেষ কয়েক দিনে তাঁর মানসিক অবস্থা কেমন ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর সমস্ত কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা এই ব্যক্তির মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এর পেছনে অন্য কোনও কারণ আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন। বর্তমানে পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।

