মুখ্যমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বৈঠকের পরেই শহরের পাঁচ হাসপাতালে স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের ‘সুনামি সফর’

নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা ডেস্ক নিউজ :: রবিবার ১৭,মে :: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে এবার সরাসরি মাঠে নামলেন স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের স্বাস্থ্য বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলকাতার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে যান তিনি।

স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরমহলে এই ঝটিকা সফরকে ইতিমধ্যেই ‘সুনামি সফর’ বলেই আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, জরুরি পরিষেবা, বেড ম্যানেজমেন্ট, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগী পরিষেবা এবং পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ জোর দিতেই এই আকস্মিক সফর।

মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি হাসপাতালে দ্রুত ও সম্মানজনক পরিষেবা পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই নির্দেশের পরেই তৎপর হয়ে ওঠে স্বাস্থ্য প্রশাসন।

এই ঝোড়ো সফরে স্বাস্থ্যসচিবের প্রধান নির্দেশিকাগুলি ছিল অত্যন্ত কড়া। সেগুলি হল, হাসপাতাল চত্বরে যেন কোথাও ময়লা না থাকে। প্রতিটি ওয়ার্ডের শৌচাগার, করিডর দিনে অন্তত তিনবার পরিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে লাইভ বেড স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতালের খালি বেডের তথ্যও দেখা যাবে । সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্য সচিব এদিন শহরের একাধিক সুপার স্পেশালিটি ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হানা দেন।

কোথাও রোগীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, কোথাও আবার জরুরি বিভাগের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেন। হাসপাতালের সুপার, ডেপুটি সুপার ও প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠকও করেন তিনি।

বিশেষ করে আউটডোরে রোগীদের দীর্ঘ লাইন, বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসকের ঘাটতি এবং কিছু ক্ষেত্রে শৌচাগার ও ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য সচিব।

এক হাসপাতালের এক আধিকারিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “স্বাস্থ্য সচিব অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন। কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।”

এদিনের সফরে হাসপাতালগুলিতে সিসিটিভি নজরদারি, রোগী অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা এবং ওষুধের স্টক রেজিস্টারও খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও কোথাও রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগও শোনেন স্বাস্থ্য সচিব। বেশ কিছু সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রশাসনিক সূত্রে খবর।

স্বাস্থ্য মহলের একাংশের মতে, সম্প্রতি একাধিক সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রশাসন এবার অনেক বেশি সতর্ক। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছেন। সেই কারণেই স্বাস্থ্য সচিবের এই ম্যারাথন সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বাড়ছিল। যদিও স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, পরিষেবা আরও উন্নত করতেই ধারাবাহিক মনিটরিং শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে ইঙ্গিত, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জেলার হাসপাতালগুলিতেও একই ধরনের আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হতে পারে। ফলে হাসপাতাল প্রশাসনের উপর চাপ যে আরও বাড়তে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

twelve − seven =