নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: রায়দিঘি :: শুক্রবার ১৭,এপ্রিল :: রায়দিঘিতে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভা।
তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তাপস মণ্ডলের সমর্থনে বিশাল জনসভা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি একের পর এক ইস্যুতে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন এবং রাজ্যের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। রায়দিঘির এই জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম না করলেও বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানাকে নিশানা করেন।
তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ। টোটো কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন সবকিছুই তুলে ধরে তিনি সাধারণ মানুষের সামনে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান।
তিনি বলেন, “যারা সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কথা বলে, তারাই নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে ব্যস্ত। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তারা মানুষের বিশ্বাস ভেঙেছে।”
এদিনের সভা থেকে কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধেও তীব্র সুরে আক্রমণ করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার পরিকল্পিতভাবে বাংলাকে বঞ্চিত করছে। তিনি বলেন, “১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা—সবই আটকে রাখা হয়েছে।
জনসভা থেকে একটি বড় ঘোষণা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, আগামী দিনে মথুরাপুরকে মহকুমা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এই ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
সভায় নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও স্পষ্ট করে দেন অভিষেক। তিনি বলেন, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নই, আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ তারিখের পর বিরোধীরা বুঝতে পারবে তৃণমূল কী জিনিস।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।
এখন দেখার, ভোটের ময়দানে এই বার্তা কতটা প্রভাব ফেলে এবং শেষ পর্যন্ত রায়দিঘির মানুষ কোন দিকে নিজেদের সমর্থন জানায়।

