নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: বনগাঁ :: বৃহস্পতিবার ২,জুলাই :: পরপর দুটি পৃথক ঘটনায় জুন মাসের ২৬ এবং ২৭ তারিখ দুই নাবালিকার হয়ে যাওয়ায় লাভ জিহাদের গুজব ছড়িয়ে পড়ে গাইঘাটা থানায় এলাকায়।
ওই দুই নাবালিকা পরিবারের তরফ থেকে অপহরণের অভিযোগ পেয়েই সঙ্গে সঙ্গে বনগাঁ জেলা পুলিশের সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত ও এসডিপিও বনগাঁ কুনাল জৈন-এর নির্দেশে তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করেন গাইঘাটা থানার আধিকারিক শুভাশিস দত্ত।
বিধানসভা ভোটের আগেও সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় মায়ের ভোট প্রচারের সঙ্গী জনৈক চিকিৎসকের ভাগ্নির নিখোঁজের ঘটনায় তৎকালীন সময়ে আলোড়ন পরে গিয়েছিল। সে সময় অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে গাইঘাটা থানার পুলিশ উদ্ধার করেছিল ওই নাবালিকাকে।
এবার অভিযোগ পাওয়ার মাত্র চার দিনের মধ্যেই নিখোঁজ হওয়া দুই নাবালিকাকে উদ্ধারে সক্ষম হয় পুলিশ। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসডিপিও বনগাঁ আইপিএস কুনাল জৈন জানান, ২৬ জুন সন্ধ্যা ছটা নাগাদ ইছাপুরের এক নাবালিকা গৃহশিক্ষকের কাছে পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়।
রাত ন’টায় না ফিরে আসায় বাড়ির লোকেরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর শুরু করে। তাদের মেয়েকে ফোন করলে হাওড়া স্টেশনে রয়েছে বলে পরিবারকে জানায় নাবালিকা । পরদিন ওই নাবালিকার পরিবার তাদের মেয়ের অপহরণের আশঙ্কা করে গাইঘাটা থানায় ডায়েরি করে।
তদন্তে নেমে এলএসআই মৌমিতা মন্ডল ফোনের লোকেশন চিহ্নিত করে ও অন্যান্য সূত্র ধরে ওই নাবালিকাকে অবশেষে হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানা এলাকা থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সমাজ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে একই ধর্মের একটি ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে।
এরপরেই বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওই নাবালিকা। এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, উত্তর বাগনান এক নাবালিকা পরিবারের উপর রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। চারিদিকে খোঁজ না পেয়ে ২৬ জুন সকালে গাইঘাটা থানায় ডায়েরি করে নাবালিকার পরিবার।
তদন্ত নেমে এসআই অনুপ কুমার মন্ডল বিভিন্ন সূত্র ধরে মোবাইলের লোকেশন ট্র্যাক করে নিখোঁজ হওয়া নাবালিকাকে রানাঘাট থানার অন্তর্গত তার পিসির বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া দুই নাবালিকাকে মেডিকেল করে সিডব্লিউসিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিএনএস ১৮৩ ধারায় তাদের গোপন জবানবন্দির জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

