নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: নয়াদিল্লি ব্যুরো :: সোমবার ৮,জুন :: জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের সাংসদদের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে চলে এল বলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, দলের দুই প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও শতাব্দী রায়ের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকারের কাছে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জানিয়ে চিঠি জমা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলে দাবি করা হচ্ছে, ওই সাংসদরা বর্তমান দলীয় নেতৃত্বের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে সংসদে আলাদা আসন বরাদ্দের আবেদন করেছেন।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের শাসক জোট এনডিএ-র সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও তাঁরা স্পিকারের নজরে এনেছেন বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাংসদ বিদ্রোহ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে নেতৃত্বের ধরন, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং সংসদীয় কৌশল নিয়ে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল বলে বিভিন্ন মহলের দাবি। সেই অসন্তোষই এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন।
লোকসভা চত্বরে দিনভর জল্পনা চলতে থাকে, বিদ্রোহী সাংসদদের একটি প্রতিনিধি দল স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।
তাঁরা নাকি দাবি করেছেন যে তাঁদের সংখ্যা লোকসভার দলত্যাগ-বিরোধী আইনের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করার মতো পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তাই তাঁদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, কালীঘাট শিবির থেকে এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
তৃণমূল নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে এবং কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক শক্তির প্ররোচনায় কিছু সাংসদ এই পথে হাঁটছেন। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাংসদ পার্থ ভৌমিক আজ থেকে শোনা যাচ্ছে বিক্ষুব্ধ দের দলে |
এনডিএ শিবির অবশ্য প্রকাশ্যে এ বিষয়ে খুব বেশি মন্তব্য করতে চায়নি। তবে জোটের কয়েকজন নেতার বক্তব্য, “যদি কোনও সাংসদ উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এনডিএ-র সঙ্গে কাজ করতে চান, তবে সেই সিদ্ধান্ত তাঁদের নিজস্ব রাজনৈতিক বিবেচনার বিষয়।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ২০ জন সাংসদ আলাদা অবস্থান নেন, তবে তা শুধু তৃণমূলের সংসদীয় শক্তিকেই দুর্বল করবে না, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ঘটনাকে বিরোধী শিবির বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
এখন সকলের নজর লোকসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তের দিকে। তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেন কি না এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান কী হয়, তার উপরই নির্ভর করবে দিল্লি ও বাংলার রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়।

