নিজস্ব সংবাদদাতা :: সংবাদ প্রবাহ :: কলকাতা :: সোমবার ৮,জুন :: বহুল আলোচিত ‘সই-কাণ্ড’ তদন্তে হাজিরার জন্য তলব করা হলেও নির্ধারিত দিনে সিআইডির সামনে উপস্থিত হলেন না তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বর্তমানে দিল্লিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন। ফলে তদন্তকারী সংস্থার ডাকে সাড়া দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি বলে জানানো হয়েছে। সিআইডি সূত্রের দাবি, তদন্তের স্বার্থে অভিষেকের বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিতে স্বাক্ষর সংক্রান্ত কিছু অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। সেই কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এই তদন্তকে সামনে আনা হচ্ছে।
দলের এক মুখপাত্র বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আইনকে সম্মান করেন। তিনি তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তবে আগে থেকে নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে আজ হাজির হওয়া সম্ভব হয়নি।”
এদিকে অভিষেকের অনুপস্থিতির পর সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তকারী সংস্থা প্রথমে নতুন করে আরেকটি সমন জারি করতে পারে এবং অন্য একটি তারিখে হাজিরার নির্দেশ দিতে পারে।
যদি বারবার তলব সত্ত্বেও তিনি উপস্থিত না হন, তাহলে তদন্তের অগ্রগতি ও মামলার প্রকৃতি বিবেচনা করে আইনি পরামর্শের ভিত্তিতে আরও কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবতে পারে সিআইডি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঘটনাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক তরজাকে আরও তীব্র করেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, তদন্তে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিআইডি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করেনি। তবে সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে খুব শীঘ্রই নতুন হাজিরার নোটিস পাঠানো হতে পারে। সেই নোটিসের জবাব এবং পরবর্তী আইনি অবস্থানের উপরই নির্ভর করবে তদন্তের ভবিষ্যৎ গতিপথ।

